ঢাকা, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ১২ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২১, ২৩:৪১

প্রিন্ট

এবার কারাগারে কর্ণফুলী গ্যাসের সার্ভেয়ার

এবার কারাগারে কর্ণফুলী গ্যাসের সার্ভেয়ার
ফাইল ফটো

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

দুর্নীতি করে গ্যাসের আবাসিক সংযোগ দেওয়ায় কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) দুই কর্মকর্তার পর একই মামলার অপর আসামি সার্ভেয়ার মো. দিদারুল আলমকেও গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ নিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।

বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৫টায় চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় তাকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম সম্মিলিত দুদক-১ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার মো. দিদারুল আলম কেজিডিসিএল এর বিক্রয় বিভাগের দক্ষিণ জোনে টেকনিশিয়ান পদে কর্মরত আছেন।

চট্টগ্রাম সম্মিলিত দুদক-১ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন জানান, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সার্ভেয়ার মো. দিদারুল আলমকে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আদালতে তোলা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে দুপুরে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সারওয়ার হোসেন ও ব্যবস্থাপক মো. মজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে দুদক। পরে তাদের আদালত তোলা হলে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমানকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ স্থানান্তর ও নতুন সংযোগ দেওয়ার অভিযোগে বুধবার চট্টগ্রামে দুদক একটি মামলা দায়ের করে। দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এর উপ-সহকারি পরিচালক শরীফ উদ্দিন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন— কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সারওয়ার হোসেন, সাবেক ব্যবস্থাপক মো. মজিবুর রহমান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সার্ভেয়ার মো. দিদারুল আলম এবং গ্রাহক মো. মুজিবুর রহমান। এদের মধ্যে থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি আদেশে আবাসিক খাতে নতুন ও বর্ধিত চুলায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। সেই সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে আসামিরা একে অপরের যোগসাজশে তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে নুরজাহান বেগম নামে হালিশহরের এক আবাসিক গ্রাহকের ১২টি দ্বৈত চুলা ভিন্ন খতিয়ান ও দলিলের মালিকাধীন জায়গায় চান্দগাঁওয়ের আবাসিক ভবনে স্থানান্তর করেন।

যদিও খাতে গ্যাস বিপনণ নিয়মাবলী-২০১৪ এর ৯, ৩ এ হস্তাস্তুৰ/স্থানান্তর/একত্রীকরণ প্রসঙ্গে বলা আছে, কোন গ্রাহকের জন্য বরাদ্দকৃত শুধুমাত্র গ্যাস লোড অন্য কোন গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর কিংবা বিক্রি করা যাবে না, যৌক্তিক কোনো কারণে গ্যাস সংযোগ স্থান পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে মালিকানা অপরিবর্তিত রেখে প্রস্তাবিত স্থানে গ্যাস সংযোগ করা যাবে। আবার কোন গ্রাহক যদি স্থায়ীভাবে সংযোগ বন্ধ করার ঘোষণা দিলে গ্যাস লোড বিতরণ কোম্পানীর কাছে সমর্পিত করতে হবে। অথচ অভিযুক্তরা মূল মালিক না হওয়া সত্ত্বেও আলাদা রাইজারের মাধ্যমে খতিয়ান ও দলিলের জায়গার অন্য মালিককে ২২টি গ্যাস সংযোগ প্রদান করে।

এজাহারে ঘটনার সারসংক্ষেপে বলা হয়, মৃত এম এ সালাম নামে একজন গ্রাহক তার বাড়ির আঙিনায় স্থাপিত ১৮টি দ্বৈত চুলার মধ্যে ৬টি দ্বৈত চুলা রেখে ১২টি দ্বৈত চুলা চান্দগাঁওয়ের সানোয়ার আবাসিক এলাকায় স্থানান্তরের আবেদন করেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরের ২৫ তারিখ আবাসিক খাতে স্থানান্তরে নিরুৎসাহিত করুন মর্মে আবেদনটি কেজিডিসিএলের তৎকালীন উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়-দক্ষিণ) প্রকৌশলী মো. সারওয়ার হোসেন আবেদনটি ফিরিয়ে দেন।

পরে মৃত এম এ সালাম নামে ওই গ্রাহকের স্ত্রী নুরজাহান সালামের নাম ব্যবহার করে তৎকালীন ডিজিএম মো. সারওয়ার হোসেন ভুয়া আবেদনপত্র ও দলিল সৃজন করে একে অপরের যোগসাজসে জাল দলিল সৃজন করে তথ্য জরিপকারী মো. দিদারুল আলম জরিপ করে স্থানান্তরের সুপারিশ করে। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিজিএমের অবৈধ নির্দেশনায় তার নিচের কর্মকর্তাগণ মো. মুজিবুর রহমানের নামে স্থানান্তরের জন্য অনুমোদন করেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়-উত্তর) চাহিদাপত্র প্রদানের অনুমতি দেন।

আরও পড়ুন- কর্ণফুলী গ্যাসের জিএমসহ গ্রেপ্তার দুই কর্মকর্তা কারাগারে

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত