ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ৩৯ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২১, ১৫:২৩

প্রিন্ট

ডিএনএ মেলেনি জেল খাটা মোস্তফার, কন্যা সন্তানের পিতা কে?

ডিএনএ মেলেনি জেল খাটা মোস্তফার, কন্যা সন্তানের পিতা কে?
তরুণীর গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশু।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

দীর্ঘ ৯ মাস এক তরুণীকে ধর্ষণ করার অপরাধে জেল খেটেছেন মোস্তফা শিকদার (৪০) নামের এক ব্যক্তি। জামিনে ছাড়াও পেয়েছেন ১৭ দিন আগে। কিন্তু ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর পরিবার পক্ষ থেকে দাবি করা হয় মোস্তফা শিকদার ধর্ষণ করায় ওই তরুণী তিন মাস আগে কন্যা সন্তানের মা হয়েছে।

পরে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট আসে ধর্ষণ তো দূরের কথা ওই কন্যা সন্তানের পিতা নয় মোস্তফা শিকদার।

এরপর পরই এলাকায় শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। তাদের একটাই প্রশ্ন তাহলে ওই কন্যা সন্তানের পিতা কে? এমন প্রশ্ন এখন কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের মানুষের মুখে মুখে।

জানা গেছে, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর কোটালীপাড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের ১৩ এপ্রিল তারাশী গ্রামের মৃত আজগার আলী শিকদারের ছেলে মোস্তফা শিকদার বাদীর বোনকে ধর্ষণ করে। এই ধর্ষণের ফলে বাদীর বোন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এর পাঁচ মাস পর তিনি কোটালীপাড়া থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের দিন দিবাগত রাতেই কোটালীপাড়া থানা পুলিশ মোস্তফা শিকদারকে গ্রেপ্তার করে ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে পাঠায়। চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাদীর বোন ওই তরুণী একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

এরপর দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস জেল খেটে চলতি বছরের ২৪ মে মোস্তফা শিকদার জামিনে মুক্তি পায়। মুক্তির পরই মোস্তফা শিকদারের পরিবারের পক্ষ থেকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য গোপালগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে আবেদন করা হয়। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশ ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে ডিএনএ পরীক্ষা করে।

ডিএনএ পরীক্ষার পর এখানকার ডিএনএ এক্সপার্ট দীপঙ্কর দত্ত রিপোর্ট প্রদান করেন। রিপোর্টে তিনি উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে মোস্তফা শিকদার ওই তরুণীর গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা নয়। ডিএনএ পরীক্ষার এই রিপোর্টের কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তারাশী গ্রামের মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন তাহলে এই কন্যা সন্তানের পিতা কে?

এ বিষয়ে বাদীর বোন ওই তরুণীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে মামলার বাদী বলেন, আমরা এই ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট মেনে নিতে পারছি না। আমরা পুনরায় ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করব।

জেল থেকে বের হওয়ায় মোস্তফা শিকদার বলেন, আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ৯ মাস জেল খাটানো হয়েছে। বর্তমানে আমি এই মামলায় জামিনে আছি। আমি একজন শ্রমজীবী মানুষ। দৈনিক আয় করে আমার সংসার চালাতে হয়। দীর্ঘ এই ৯ মাস জেলে থাকার কারণে আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। আমাকে যে হয়রানি করা হয়েছে তার জন্য আমি বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।

কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর মোস্তফা শিকদারকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে দিয়েছি। আদালত যদি এই মামলার পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন, তাহলে আমরা তদন্ত করে বের করার চেষ্টা করব যে এই কন্যা সন্তানের পিতা কে?

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত