ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ১৫ মিনিট আগে

মাদ্রাসাছাত্র স্বাধীন হত্যা মামলা আলোর মুখ দেখেনি ৫ মাসেও

  বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২১, ২০:৪৫

মাদ্রাসাছাত্র স্বাধীন হত্যা মামলা আলোর মুখ দেখেনি ৫ মাসেও
মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের ছাত্র শেখ স্বাধীন

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বেলতলী হাফেজিয়া মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের ছাত্র শেখ স্বাধীন (৯) হত্যা মামলা ৫ মাসেও আলোর মুখ দেখেনি বলে হতাশ পরিবার। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মাদ্রাসাছাত্র স্বাধীনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। বর্তমানে মাদ্রাসাটি বন্ধ আছে এবং মাদ্রাসার মুহতামিম শহিদুল ইসলাম গা-ঢাকা দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা বলছেন, তদন্ত কার্যক্রম অব্যহত।

গত ১৬ জানুয়ারি সন্ধা ৭টায় উপজেলার কিচক ইউনিয়নের বেলতলী হাফেজিয়া মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের ছাত্র শেখ স্বাধীনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। মাদ্রাসার সংলগ্ন গাংনই নদীর দক্ষিণ তীরে মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীরের পাশে গাছের নিচে থেকে স্বাধীনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শিবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন স্বাধীনের বাবা শাহ আলম শেখ।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্বভার দেয়া হয় শিবগঞ্জ থানার এসআই তরিকুল ইসলামকে। তিনি প্রায় ২মাস মামলাটি তদন্ত করে কোনো ক্লু উদঘাটন করতে পারেননি। এরপর গত ১৪ মার্চ বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডিকে।

স্বাধীন হত্যা মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা জেলা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক ফুয়াদ রুহানি বলেন, প্রায় ৩ মাস হলো মামলাটি সিআইডিতে এসেছে। আমরা গুরুত্ব সহকারে হত্যরহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি। প্রায় ১০ জনের কাছ থেকে স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

নিহত স্বাধীনের বাবা শাহ আলম শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রায় ৫ মাস অতিবাহিত হয়ে গেল, আজও আমার ছেলে হত্যার বিচার পাইনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এসেছে। আশা করি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমার ছেলের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।

তিনি আরও বলেন, থানায় এজাহার করার সময় মুহতামিম শহিদুল ইসলামসহ মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের নাম এজাহারে উল্লেখ করতে চাইলে ওসি সাহেব আমাকে বলেন, আপনি পরেও তাদের নাম দিতে পারবেন। এ কারণেই অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করতে হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ঘটনার দিন মাগরিবের নামাজ শেষে মাদ্রাসার অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে মক্তবে পড়ছিলো শেখ স্বাধীন। মুহতামিম শহিদুলের অনুমতি নিয়ে সে মাদ্রাসার টয়লেটে যাওয়ার পরপরই মুহতামিম শহিদুলও বের হয়ে যান। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর মুহতামিম শহিদুল মাদ্রাসায় ফেরত আসলেও স্বাধীন আর ফেরেনি। ওইদিন সন্ধায় মাদ্রাসার কাজের বুয়া রহিমা রান্না করার জন্য মাদ্রাসায় যান এবং ওই মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক গাজীউল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ বুলু মিয়া রাত ১০টা পর্যন্ত মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত