ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ৭ মিনিট আগে

ভাসানচরে ডায়রিয়ায় তিন শিশুর মৃত্যু

  নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২১, ১৩:৩১

ভাসানচরে ডায়রিয়ায় তিন শিশুর মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত

নোয়াখালী প্রতিনিধি

ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত ১৫ দিনে ভাসানচর ক্যাম্পের বিভিন্ন ক্লাস্টারের ছয় শতাধিক রোহিঙ্গা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময় মারা গেছে তিন শিশু।

বুধবার সকালে ভাসানচর ২০ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার তানভীর আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মৃত শিশুরা হলো- ক্যাম্পের ১০ নম্বর ক্লাস্টারের বাসিন্দা মো. সিরাজের মেয়ে জয়নব (১), ৫৬ নম্বর ক্লাস্টারের বাসিন্দা জানে আলমের ছেলে জিসান (২) এবং ৫৫ নম্বর ক্লাস্টারের আবদুর রহিমের মেয়ে উম্মে হাবিবা (৩ মাস)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এ ছাড়া সঠিক পদ্ধতিতে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে না পারা, খাওয়ার আগে ও মল ত্যাগের পরে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার না করা এবং তীব্র গরমের কারণে ক্যাম্পে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই অপুষ্টিতে ভুগছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

মেডিকেল অফিসার ডা. তানভীর আনোয়ার বলেন, ২০ শয্যার হাসপাতালে সব সময় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। শয্যার অভাবে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দায় রোগীদের রেখে চিকিৎসা চলছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী ডায়রিয়া নিয়ে আসছেন। গত ১৫ দিনে ১৬০০ রোগীকে হাসপাতাল ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুষ্টিহীনতা ও ডায়রিয়ায় তিন শিশুর মৃত্য হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে অন্য রোগী ভর্তি না করে শুধু ডায়রিয়া রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শুরুতে স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধের কিছুটা সঙ্কট থাকলেও এখন নেই। পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে ও জেলা থেকে আরও পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে হঠাৎ করে ভাসানচরে ডায়রিয়ায় প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ভাসানচরের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারীরা। তবে পর্যাপ্ত কলেরা স্যালাইন ও ওষুধ মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ১৮ হাজার ৩৪৭ জন রোহিঙ্গা ভাসানচর ক্যাম্পে রয়েছে। তাদের চিকিৎসাসেবায় রয়েছে ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল। পাশাপাশি ২০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। এতে আন্তঃ ও বহির্বিভাগের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চিকিৎসাসেবা দিতে দুইজন মেডিকেল অফিসার, দুইজন উপসহকারী কমিউনিটি অফিসার, দুইজন স্টাফ নার্স, একজন মিডওয়াইফ, দুইজন ওয়ার্ডবয় ও দুইজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি পাঁচটি এনজিওর কর্মীরা কাজ করছেন। ভাসানচর থেকে গুরুতর কোনো রোগীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে রোগী বহনের জন্য হাতিয়ার জনতা বাজারে সার্বক্ষণিক দুটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে।

নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, তীব্র গরমের পর বৃষ্টি এবং ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশঙ্কাজনকহারে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন কাজ করছেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন গত তিন দিন হাতিয়ার জনতা ঘাটে গিয়ে ফিরে এসেছেন। মেঘনা নদী উত্তাল থাকায় তারা ওষুধ নিয়ে ভাসানচরে যেতে পারছেন না। আবহাওয়া ভালো হলে পর্যাপ্ত ওষুধ ভাসানচর হাসপাতালে পৌঁছে যাবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত