ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ২ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২১, ১৮:৩৮

প্রিন্ট

গাছের চারাগুলো জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন বৃদ্ধ মঞ্জুর

গাছের চারাগুলো জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন বৃদ্ধ মঞ্জুর
ছবি- প্রতিনিধি

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

‘গাছগুলো আমার সখের লাগানো ছিল। রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন নার্সারি থেকে বেছে বেছে আনা আম-কাঠাল এবং কাঠের কিছু গাছ লাগিয়েছিলাম বাড়ির আঙিনা ও সড়কের পাশে। কি এমন অন্যায় করেছিল এ গাছগুলো? এ কেমন নিষ্ঠুর কাজ করলো?’

রাতের আঁধারে দুষ্কৃতিকারীদের কেটে ফেলা বিভিন্ন ফলদ গাছের চারাগুলো ধরে কেঁদে কেঁদে আর্তনাদ করে কথাগুলো বলছিলেন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মঞ্জুর আলী।

নিজের কষ্টে লাগানো গাছগুলো কাটার সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে ঘটনাস্থল গিয়ে কাটা গাছ জড়িয়ে ধরে কান্না করেন তিনি। ঘটনাটি ঘটে বুধবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের চান্দপুর গ্রামের গঙ্গামন্ডল মডেল কলেজ সড়কের পাশে।

সড়কের পাশের বাড়ির বৃদ্ধ হাজী মো. মঞ্জুর আলী বলেন, বছর তিনেক আগে আমার ছেলে কামাল হোসেন রাজশাহী থেকে উন্নতমানের আমের চারা, দেশের বিভিন্ন নার্সারি থেকে কাঠাল ও কাঠের চারা আনে। সেগুলো নিজ বাড়ির আঙিনায় এবং গঙ্গামন্ডল মডেল কলেজের সড়কের পাশে লাগিয়েছিলাম। সন্তানের মতো গাছগুলোর পরিচর্যা করে আসছিলাম। গাছগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। বছর ঘুরে এলে থোকায় থোকায় ফল ধরার দশ্য দেখার অপেক্ষায় ছিলাম, সে দেখা আর হলো না।

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, রাজশাহীসহ বিভিন্ন নার্সারি থেকে আনা গাছগুলো সখে লাগানো ছিল। বৃদ্ধ হাজী মঞ্জুর আলীকে প্রতিদিনই গাছগুলোর পরিচর্যায় করতে দেখতাম। আজ সকালে এসে দেখি উনার সখের গাছগুলোর মধ্যে আমা-কাঠাল, এমনকি কাঠের বেশকিছু গাছ কুপিয়ে কেটে ফেলে রেখেছে। কারা এমন কাজ করতে পারে- জানতে চাইলে স্থানীয় অনেকেই বলছেন, ওদের নাম বলা যাবে না।

বৃদ্ধ মঞ্জুর আলীর ছেলে কামাল হোসেন বলেন, আমরা বাড়িতে থাকি না, বাবা থাকেন। বাবার ইচ্ছাতেই কিছু উন্নতমানের আম-কাঠালের ফলদ ও বিভিন্ন বৃক্ষের গাছের চারা এনে দেই। সেগুলো বাবা সন্তানের মতোই পরিচর্যা করে আসছেন। খুব খারাপ লাগছিল তখন, যখন বাবা কাটা গাছগুলো ধরে সন্তান হারানোর মতো হাউমাউ করে কেঁদে ফেলছিলেন।

এ বিষয়ে মামলা করবেন কিনা- জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, কারা কখন এ গাছগুলো কেটেছে তা দেখিনি। তবে বাড়ির সামনে একটি পাকা ভিটি দোকানঘর নির্মাণ করি, যা এখনো চালু করা হয়নি। ওই দোকানঘরে একদল বখাটে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা দিতো, জুয়া খেলতো ও মাদক সেবন করতো। তাদের বাধা দেই, দোকান ছেড়ে চলে যেতে বলি। ওরা আমার কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি দিয়ে যায়। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওরা এ কাজটি করতে পারে বলে সন্দেহ করলেও মামলা করে আর বিপদে পড়তে চাই না।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত