ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ২ মিনিট আগে

ঢাকার হাসপাতালে বাড়ছে রোগী

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২১, ১৪:২৫

ঢাকার হাসপাতালে বাড়ছে রোগী
সংগৃহীত ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। রোগী বাড়ায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় রোগী ভর্তির চাপ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৬ জন। এসব রোগীর ১ হাজার ২৯৪ জন ঢাকা মহানগরের রোগী। দুই সপ্তাহ আগে গত ৭ জুন ঢাকায় করোনার সংক্রমণের হার ছিল ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। এখন সেটি বেড়ে ২৪ ঘণ্টায় এসে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৭৩ শতাংশে। ঢাকায় করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

তথ্য বলছে, গতকাল সোমবার ঢাকার সরকার-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সাধারণ শয্যার বিপরীতে ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং আইসিইউ শয্যার বিপরীতে ৩৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ শয্যায় রোগী ভর্তি রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ভ্যারিয়েন্টের কারণে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়বে। রোগী বাড়লে হাসপাতালগুলোয় রোগী ভর্তির চাপও বাড়বে। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে মানুষের মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যাই মানতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকার ১৫টি সরকারি হাসপাতালে সাধারণ শয্যা ৩ হাজার ৪৫৫টি এবং আইসিইউ শয্যা ৩৮৪টি। এর মধ্যে সাধারণ শয্যায় ১ হাজার ১৪৬ জন এবং আইসিইউ শয্যায় ১৮৯ রোগী রয়েছে।

শতকরা হিসেবে রোগী ভর্তি আছে সাধারণ শয্যায় ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং আইসিইউ শয্যা ৪৯ দশমিক ২২ শতাংশ। আর ঢাকার ২৮টি বেসরকারি হাসপাতালে সাধারণ শয্যা ১ হজার ৬৮১টি এবং আইসিইউ শয্যা ৪৩৭টি রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ শয্যায় ৩৭৬ জন এবং আইসিইউ শয্যায় ১০৩ রোগী ভর্তি আছে। শতকরা হিসাবে রোগী ভর্তি আছে সাধারণ শয্যায় ২২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং আইসিইউ শয্যা ২৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৪৩টি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে মোট সাধারণ শয্যা আছে ৫ হাজার ১৩৬টি এবং আইসিইউ শয্যা ৮২১টি। সাধারণ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে ১ হাজার ৫২২ জন, যা শতকরা হিসাবে ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। আর আইসিইউ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে ২৯২ জন, যা শতকরা হিসাবে ৩৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে মোট ১২ হাজার ৫৬টি সাধারণ শয্যা এবং ১ হাজার ১৩৪টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ শয্যায় ৪ হাজার ১৪৬ জন এবং আইসিইউ শয্যায় ৪৭১ জন। শতকরা হিসাবে সাধারণ শয্যায় ৩৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ আইসিইউ শয্যার ৪১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। শয্যায় রোগী ভর্তি আছে।

গত রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বুলেটিনে প্রতিষ্ঠানটির মূখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিভাগে করোনার সংক্রমণ বেড়ে চলছে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ফরিদপুর জেলায় সংক্রমণের হার বেশি। এরপর আছে গোপালগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল। এদিকে, ঢাকায় যেন সংক্রমণ ব্যাপক হারের ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য ঢাকার আশপাশের ৭টি জেলায় লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৪ হাজার ৫৭টি। এর মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৬ জন। ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। দেশে এখন পর্যন্ত ৬৩ লাখ ৫১ হাজার ৭৯১টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৪ জন। মোট নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৭৮ জন। এর মধ্যে ৫৬ জন পুরুষ এবং ২২ জন নারী। ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৩৯ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২৩, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৮, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৭, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছে। মৃতদের অঞ্চল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ২৩ জন, চট্টগ্রামে ১১, রাজশাহীতে ১৫, খুলনায় ১৪, বরিশালে ৩, সিলেটে ২, রংপুরে ৯ এবং ময়মনসিংহে ১ জন রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ৮২৭ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৪৫৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫০৬, রংপুর বিভাগে ৯৩, খুলনায় ৩০৭, বরিশালে ৪৩, রাজশাহীতে ২৬৬, সিলেটে ৯০ এবং ময়মনসিংহে ৬৫ জন রয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত