ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

অভিনব কায়দার উপবৃত্তি-প্রতিবন্ধী ভাতা হাতিয়ে নিলো তরুণী

  সাইফুল আরিফ জুয়েল

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২১, ১৫:৩৮

অভিনব কায়দার উপবৃত্তি-প্রতিবন্ধী ভাতা হাতিয়ে নিলো তরুণী

সাইফুল আরিফ জুয়েল

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে রেশনকার্ড করে দেয়ার নাম করে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা ও প্রতিবন্ধী ভাতা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে এলাকাবাসীর চাপে অভিযুক্ত শ্রাবন্তী আক্তার চম্পা (১৯) নামে ওই তরুণী হাতিয়ে নেয়া টাকা ফেরত দিয়েছেন।

সম্প্রতি উপজেলার সুয়াইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। চম্পা ওই গ্রামের আলম মিয়ার মেয়ে। তার মা মাজেদা আক্তার সুয়াইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য।

এ নিয়ে ‘হদয়ে আদর্শনগর’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে স্থানীয় আবদুল কাদির নামে এক যুবক পোস্ট দিলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সুয়াইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ শতাধিক সুবিধাভোগীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয় চম্পা। রেশনকার্ড করে দেয়ার কথা বলে চম্পা শিক্ষার্থীদের অভিবাবক ও বিভিন্ন ভাতাপ্রাপ্তদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে কৌশলে তাদের নগদ একাউন্টে থাকা টাকা নিজ একাউন্টে নিয়ে নেয় চম্পা। বিষয়টি এক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর চাপে সেই টাকা ফেরত দেয়। বর্তমানে চম্পা এলাকায় নেই বলে জানায় ভুক্তভোগীরা।

সুয়াইর গ্রামের ডলি আক্তার, তাসলিমা আক্তার, ইতি মনি ও আক্তার বলেন, আমাদের রেশনকার্ড করে দেবে বলে জানায় চম্পা। কিভাবে এটা তার পক্ষে সম্ভব- এমন প্রশ্নের পর বিষয়টি আমাদেরকে বুঝাতে থাকে। এক পর্যায়ে মোবাইল হাতে নিয়ে কৌশলে বাচ্চাদের উপবৃত্তির টাকা তার একাউন্টে ট্রান্সফার করে নেয় চম্পা। বিষয়টি প্রথমে কেউ বুঝতে পারেনি। উপবৃত্তির টাকা তুলতে গিয়ে ব্যালেন্স খালি দেখে সবারই টনক নড়ে। পরে এলাকাবাসী মিলে চাপ দেয়ার পর কয়েক দফায় টাকা ফেরত দেয়।

প্রতিবন্ধী হিমা আক্তার জানান, আমার প্রতিবন্ধী ভাতা ও দুই শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা মিলে ৭ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যায়। পরে চাপে পড়ে সেই টাকা ফেরত দেয় চম্পা।

বিষয়টি স্বীকার করে শ্রাবন্তী আক্তার চম্পার বাবা মো. আলম মিয়া বলেন, নিজেদের লোকজনের টাকাই নিয়েছিল। পরে ফেরত দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য স্বপণ মিয়া বলেন, ঘটনাটি সত্য। বিষয়টি এলাকায় দেন-দরবার করে শেষ করা হয়েছে।

সুয়াইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র পন্ডিত এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। শুনেছি টাকা ফেরত দিয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীদের উচিত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করা। শাস্তি না হলে এ ধরণের অপরাধ কমানো মুশকিল। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে বলবো সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত