ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ৫ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২১, ২০:১৬

প্রিন্ট

পরিত্যক্ত বাড়িতে একে একে মারা গেল ৭টি গুইসাপ

পরিত্যক্ত বাড়িতে একে একে মারা গেল ৭টি গুইসাপ
ছবি- প্রতিনিধি

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১০ দিনে ৭টি গুইসাপের মৃত্যু হয়েছে। রান্নাঘরের দরজার সামনে একটি নির্দিষ্ট ধোঁয়া বের হওয়ার স্থানে এ সকল গুইসাপের মৃত্যু হয়। এতে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বেগমাবাদ গ্রামের প্রয়াত ক্ষিতিশ পোদ্দারের বাড়ির দিলীপ সাহার পরিত্যক্ত রান্নাঘরে।

স্থানীয়রা জানায়, কিছুদিন ধরে ওই স্থানটিতে থেমে থেমে ধোঁয়ার মতো গ্যাস জাতীয় কিছু বের হতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার উপস্থিতি দেখা যায়। সবার দৃষ্টি ওই পরিত্যক্ত ঘরের কোণে, যেখান থেকে ধোঁয়া উড়ছে। গুইসাপগুলোর মৃত্যুর কারণও কেউ বলতে পারছে না।

পরে ওই গ্রামের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া চন্দন শীল নামে এক কিশোর হাতে পলিথিন পেঁচিয়ে রশি বেঁধে ঘটনাস্থল থেকে একটি গুইসাপ সরিয়ে নেয়। বাঁশের সাহায্যে ওই ধোঁয়া বের হওয়া স্থানের মাটি খুঁড়তে গিয়ে বৈদ্যুতিক শক অনুভব করে সে। তখনই বোঝা যায় মাটির নিচে কোনো কারণে বিদ্যুৎবাহী তার আছে। বৃষ্টির কারণে মাটির সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় গুইসাপগুলো ওই স্থান দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যাচ্ছে।

সংবাদ পেয়ে বিদ্যুৎকর্মী গোলাম আজম ও রুবেল মিয়া ঘটনাস্থলে যান। তারা জানান, বাশঁটি বৃষ্টিতে ভিজা ছিল, তাই আর্থিং করেছে। গুইসাপ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মরার কথা নয়। তবে জিহ্বার সাহয্যে গন্ধ নেয়ার সময় হয়তো বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা ঘটেছে। এ বাড়ির ওয়ারিংয়ে সমস্যা আছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে মেরামত না করলে আরো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় সমাজসেবক সুজিৎ পোদ্দার বলেন, আমাদের এই এলাকায় কয়েকশ' গুইসাপ আছে। এরা আমাদের ক্ষতি করে না। এই গুইসাপগুলো বিষাক্ত সাপ থেকে আমাদের নিরাপদ রাখে।

স্থানীয় ইলা সাহা ও ভানুবালা সাহা জানান, এ বাড়িতে প্রায় দুইশ' বছরের পুরনো পরিত্যক্ত ভবনসহ বেশ কয়েকটি ঘর আছে। ঘরগুলোতে কেউ বসবাস করে না। ফলে বাড়ির অধিকাংশ জায়গা ঝোঁপঝাড়ে ভরপুর। এ সকল ঝোঁপঝাড়, পরিত্যক্ত ভবন ও ঘরে গুইসাপগুলোর বিচরণ। এগুলোর কারণে আমরা বিষাক্ত সাপের ছোবল থেকে রক্ষা পেয়ে আসছি।

সোমা রানী নামে একজন বলেন, কিছুদিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই এক-দুটি করে গুইসাপ মরছে। গুইসাপগুলোকে যেখানে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে, বেশ কয়েকটি গুইসাপ দলবদ্ধভাবে ওই স্থানটির মাটি খুঁড়ে মৃত গুইসাপগুলো তোলার নেয়ার চেষ্টা করে। তাই মাটিচাপা দেয়া স্থানটিতে টিন ও পাথরচাপা দিয়ে রেখেছি।

রতন পোদ্দার, সুজন সাহা ও অনব পোদ্দার জানান, সংবাদ পেয়ে জাফরগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন আসেন। বাড়ির মালিক দিলীপ সাহার অনুমতি না পাওয়ায় ঘরের তালা ভেঙে মেইনসুইচ অফ করা কিংবা মূল পিলার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যায়নি। ফলে শুধু গুইসাপই নয়, অসতর্কতায় মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ারও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত