ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ১১ মিনিট আগে

জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২১, ১৮:১৫  
আপডেট :
 ১০ জুলাই ২০২১, ১৮:২০

জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব
মশক নিধনে চিরুনি অভিযানের উদ্বোধনকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে নগরবাসী এবং সিটি করপোরেশনকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

শনিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে মশক নিধনে চিরুনি অভিযানের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মশা থেকে মুক্ত থাকতে সিটি করপোরেশন যেমন তাদের দায়িত্ব পালন করবে ঠিক তেমনিভাবে নগরবাসীকেও তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। শতভাগ সফলতার জন্য উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অবশ্যই দরকার।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, নাগরিকরা যদি তাদের স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন না করে। তাহলে সিটি করপোরেশন একাই সকল সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। সবাই মিলে একত্রে কাজ করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, আমরা যদি নিজের বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, এয়ার কন্ডিশন বিশেষ করে নির্মাণাধীন বা পরিত্যক্ত ভবনের বেসমেন্ট অথবা ছাদে পানি জমিয়ে না রাখি তাহলে এডিস মশা প্রজননের সম্ভাবনা থাকে না।

‘পানি জমা থাকলেও সেটি তিনদিন পরপর অবশ্যই পরিস্কার করতে হবে। একইসঙ্গে জমা পানিতে অল্প পরিমাণের কেরোসিন দিতে হবে’ বলেও জানান মন্ত্রী।

সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, দুই সিটি করপোরেশনে ১০ জন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা যেখানেই পানি জমা রাখা পাবে সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করবেন। সরকারি-বেসরকারি যে প্রতিষ্ঠানই ডেঙ্গু প্রজননে ভূমিকা রাখবে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এলকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি-কর্মকর্তা, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এবং এনজিও কর্মীদের নিয়ে কমিটি করে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডকে দশটি সাব জোনে ভাগ করে একত্রে কাজ করায় গত বছর সাফল্য এসেছিলো উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম বলেন, মেয়র-কাউন্সিলরা যখন আন্তরিকতার সাথে কাজ করবে তখন স্বাভাবিকভাবেই কমিউনিটি এবং নগরবাসী স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করবে। সবক্ষেত্রে জনসম্পৃক্ততা করতে পারলে কোনো চ্যালেঞ্জই চ্যালেঞ্জ মনে হবে না।

তিনি আরো বলেন, ঢাকার দুই মেয়র শহরবাসীকে মশামুক্ত রাখতে কাজ করছে। মন্ত্রণালয় থেকে সিটি করপোরেশনকে পর্যাপ্ত লোকবল, কীটনাশক, ফগিং মেশিন, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, এডিস মশা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অল্প সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু মারাত্মক রুপ নিলে আমাদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ কারণে শুধু উত্তর নয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও অভিযান শুরু হয়েছে। আমরাও তাদের সঙ্গে মাঠে নেমেছি।

এসময় ওয়াসা থেকে দুই সিটি করপোরেশনের কাছে খাল হস্তান্তর করার পর খাল-জলাশয়, ড্রেন, কালভার্ট পরিস্কার করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। সেইসঙ্গে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা না ফেলার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব আজ করোনা মহামারির মধ্যে রয়েছে। এরমধ্যে যাতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় কারও মৃত্যু না হয়, সেজন্যই ঢাকা উত্তর সিটিকে ১০টি অঞ্চলের ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে ১১ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত (শুক্রবার ব্যতীত) ৮ দিনব্যাপী মশক নিধনে চিরুনী অভিযান পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমআর/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত