ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ৫ মিনিট আগে

এক লাখ টাকার চুক্তিতে ৪ জেলেকে সাগরে হত্যা

  রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২১, ০৯:৪৩  
আপডেট :
 ১৯ জুলাই ২০২১, ০৯:৪৮

এক লাখ টাকার চুক্তিতে ৪ জেলেকে সাগরে হত্যা
রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

দাদন ব্যবসায়ীর সঙ্গে এক লাখ টাকার চুক্তিতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চার জেলেকে সাগরে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। প্রথমে ঘটনাটি জলদস্যুতার বলে প্রচার হলেও নৌ-পুলিশের প্রচেষ্টায় বেরিয়ে এসেছে চার খুনের আসল তথ্য।

স্থানীয় বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের শিকার চার জেলে হলেন, রামগতির চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের সোনালী গ্রামের নাসির উদ্দিন মাঝি (৪৫), তার ছেলে মো. রিয়াজ (১২), নোয়াখালীর চর জব্বর এলাকার মো. করিম (৪৫) ও একই এলাকার মো. মিরাজ (১৮)।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, মো. ইউছুফ মিয়া (৩৩), মো. রাসেল (৪০) ও আল-আমিন (৩৫)। বিভিন্ন মেয়াদে তাদের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের সোনালী গ্রাম এলাকার নাসির উদ্দিন মাঝি পেশায় একজন জেলে। মাছ শিকারে নদী ও সমুদ্রে তার একটি ট্রলার রয়েছে। তিনি প্রায় ১০ মাস পূর্বে চট্টোগ্রামের বাকলিয়া নতুন ফিশারিঘাটের আড়তদার মো. ইউছুফ মিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা দাদন নেন। এরপর থেকে নিয়মিত ওই আড়তে মাছ বিক্রি করছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি অভাব-অনটনে পড়ে নাসির মাছঘাটের অপর এক আড়তদারের কাছ থেকে টাকা দাদন নেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১২ মে ইউছুফ ট্রলারসহ নাসির মাঝিকে ঘাট এলাকায় আটকে রাখেন। কিন্তু নাসির কৌশলে ট্রলার নিয়ে পালিয়ে এলাকায় চলে আসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউছুফ ট্রলারটি নিজের কবজায় নেওয়াসহ নাসিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নাসিরের ট্রলারের সহযোগী জেলে রাসেল, সুমন, সোহাগ ও আল-আমিনের সঙ্গে ইউছুফ মিয়া এক লাখ টাকায় হত্যার চুক্তি করেন।

পরিকল্পনা ও চুক্তি অনুযায়ী, ১৬ মে চার জেলে রামগতির স্লুইসগেট বাজারের একটি দোকান থেকে ১০টি ঘুমের বড়ি কেনে। পরদিন নাসির, অপর তিন জেলেসহ চারজন মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। পরে কৌশলে তারা নাসিরকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকায় সাগরে মাছ ধরার জন্য নিয়ে যান। সেখানে ২০ মে তারা চায়ের সঙ্গে ঘুমের বড়ি মিশিয়ে নাসির, রিয়াজ, করিম ও মিরাজকে খেতে দেন। চা খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়লে বাকি চারজন মিলে তাদের সাগরে ফেলে হত্যা করে ট্রলারটি চট্টগ্রামের বাকলিয়া নতুন ফিশারিঘাট এলাকায় নিয়ে ইউছুফকে বুঝিয়ে দেন।

পরে আল-আমিন এলাকায় গিয়ে প্রচার করেন জলদস্যুরা তাদের ট্রলারে হামলা চালিয়েছে। তিনিসহ চার জেলে পালিয়ে আসতে পারলেও নাসির মাঝি ও তিন জেলেকে জলদস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন মীরজানের মোবাইল ফোনে রাসেল নামের এক ব্যক্তি ফোন করেন। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, নাসির মাঝিসহ চার জেলে তার হেফাজতে রয়েছেন। এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। বিষয়টি নাছিরের স্ত্রী মীরজান থানায় গিয়ে জানালে পুলিশ লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়।

উপজেলার বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ১৫ জুন যশোরের চৌগাছা থেকে রাসেলকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমলনগরের হাজিরহাট এলাকা থেকে আল-আমিন এবং চট্টগ্রাম থেকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ইউছুফকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে কোনো ক্লু পাওয়া না গেলেও মোবাইল ফোন ট্র্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে রাসেলকে আটকের মধ্য দিয়ে তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ত সুমন ও সোহাগকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত