ঢাকা, শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

টিকা গ্রহণে বিপাকে বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীরা

  মোস্তাফিজুর রহমান

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৪:৩৫

টিকা গ্রহণে বিপাকে বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীরা
ফাইল ছবি
মোস্তাফিজুর রহমান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে শনিবার রাতে ঢাকা আসেন সৌদী আরব গমনেচ্ছু কর্মী রিয়াদ মিয়া (৩০)। কখনো হেটে, কখনো রিক্সা বা অটোরিক্সায় করে দীর্ঘ পথ পারি দিয়ে কমলাপুর রেল স্ট্রেশনে এসে ছিন্নমূল মানুষদের সঙ্গে আশ্রয় নেন তিনি। ঢাকায় তার আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত কেউ নেই। তাই সেখানে রাত কাটিয়ে সকালে সোহরাওর্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা নিতে আসেন রিয়াদ।

টিকা নিয়ে যাবার পথে কথা হলে বিদেশ গমনেচ্ছু এই কর্মী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘ঢাকা শহরের কিছুই চিনি না। কমলাপুর রাত কাটাইতে পারমু জেনে আসছিলাম। ঢাকায় আসতে পারবো কিনা সেটাও কল্পনার বাইরে ছিল। যাক টিকা নিতে পারছি। কাল থেকে কোন ঘুম নাই। শরীর চলে না। তারপরও বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ আমার সবকিছু শেষ। এখন বিমানের টিকেট পেলেই চলে যামু। টিকা না নিলে কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৭৫০০০ হাজার টাকা লাগে। এই টাকা দিয়াও দিছি। আমরা গরিব মানুষ, বিদেশের যাওয়ার প্রায় সব টাকাই ঋণ করে দিছি। কোয়ারেন্টাইনের টাকা ফেরতের আশায় লকডাউনের মধ্যে কষ্ট করেই টিকা নিতে আইছি। এই টাকা ফেরত পাইলে অনেক উপকার হবে।’

শুধু রিয়াদ মিয়াই নয়, কোয়ারেন্টাইন এড়াতে হাজার হাজার কর্মী এমন ভোগান্তি পড়েছেন। কঠোর লকডাউনে প্রায় হেটে হেটেই টিকা নিতে ঢাকায় আসছেন তারা। তবে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মীদের নিজেদের ভুলের কারণেই বেশি ভুগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের টিকার বিষয়ে দায়িত্বে থাকা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সারওয়ার আলম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, সৌদী ও কুয়েতগামী কর্মীদের জন্য ঢাকায় সাতটি সেন্টার ডিডিকেটেট করে দেয়া হয়েছিল। কারণ তাদেরকে ফাইজার ও মডার্নার টিকা দিতে হবে। এছাড়া দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকায় মডার্নার টিকা দেয়া হচ্ছে। সেখান থেকেও টিকা নিতে পারছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে অনেকেই ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে নিবন্ধন করছেন। এতে ঢাকা কেন্দ্রগুলোতে চাপ তৈরি হচ্ছে, অনেকে এসএমএম পেতে দেড়ি হচ্ছে। আবার লকডাউনে অনেকেই কষ্ট করে ঢাকায় এসে টিকা নিতে হচ্ছে।

সিনিয়র সহকারী সচিব সারওয়ার আলম আরো বলেন, আমরা পরামর্শ দিচ্ছি যাদের ফাইজার বা মডার্নার টিকা প্রয়োজন। তারা যেন কাছাকাছি সিটি করপোরেশন এলাকার কেন্দ্র থেকে মডার্নার টিকা গ্রহণ করেন। দেশের সবগুলো সিটিতেই মডার্নার টিকা প্রদান কার্যক্রম চলমান আছে। কিন্তু অনেকে নিবন্ধনে ভুল করছেন। যেকারণে লকডাউনের মধ্যেও তাদের ঢাকায় আসতে হচ্ছে।

প্রবাসী কর্মীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে জেলা পর্যায়ে টিকা দেয়ার কোন পরিকল্পনা বা উদ্যোগ গ্রহণ করবে কিনা জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা) মো. আব্দুল খালেক মল্লিক বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার জানা নেই।’

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন) মনির হোসেন চৌধুরী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারবেন।’

তবে বিএমইটি মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম এনডিসি সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

বাংলাদেশ জার্নাল- এমআর/ ওআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত