ঢাকা, শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নামলো সতর্ক সংকেত

  চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৫:১৫  
আপডেট :
 ২৫ জুলাই ২০২১, ১৫:৫৩

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নামলো সতর্ক সংকেত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

দেশের উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের ফলে থেমে থেমে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে চট্টগ্রামে। লঘুচাপের ফলে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে চলতি সপ্তাহে লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে এ সময় ঘূর্ণিঝড়ের আশংকা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।

রোববার চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান এসব তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া রোববার ভোর ৬টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে প্রায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। চট্টগ্রামসহ অন্য ৪ সমুদ্রবন্দরকেও সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানান, সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলা হলেও চট্টগ্রামে আরও দু’দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি থাকতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই।

তবে পুরো বর্ষাজুড়ে এভাবেই থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরবে। আগামীকাল সোমবার থেকে পরবর্তী দুইদিন চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থানে হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি রোদের দেখা মিলতে পারে।

জানা যায়, রোববার চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হতে পারে ১৫ মিলিলিটার, সোমবার বৃষ্টিপাত হতে পারে ১৩ মিলিলিটার, মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) ১২০ মিলিলিটার, বুধবার (২৭ জুলাই) ৮৮ মিলিলিটার, বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) বৃষ্টিপাত হতে পারে ১৩৬ মিলিলিটার।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, এখন তিন নম্বর সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রামে আগামী দুই দিন মাঝারি ধরনের বৃষ্টি থাকতে পারে। এছাড়া ভারি বৃষ্টি কিংবা পাহাড়ধ্বসের সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, লঘুচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্য ঘটেছে। যার কারণে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়েছে। লঘূচাপ বড়জোর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। নিম্নচাপে পরিণত হলে মুষলধারে বৃষ্টি ঝরিয়ে এটি দুর্বল হয়ে যাবে।

ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে হয়। কিন্তু বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলিসিয়াসের বেশি না। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য মেঘ উর্ধ্বাকাশে থাকতে হয়। কিন্তু এখন মৌসুমী বাতাস বেশি থাকায় মেঘমালা বেশি উপরে উঠতে পারছে না।

এদিকে বৃষ্টির মধ্যেও কঠোর লকডাউনে চট্টগ্রামে মাঠে ছিলো ভ্রাম্যমাণ আদালত। কারণ ছাড়াই যারা বেরিয়েছেন তাদের পড়তে হয়েছে জবাবদিহিতার মুখে, গুনতে হয়েছে জরিমানা।

তবে কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিনে সড়কে যানবাহনের পরিমাণ ছিল অন্য দুইদিনের তুলনায় বেশি। ব্যাংক খোলা থাকায় অফিসগামীদের পড়তে হয়েছে দুর্ভোগে। এছাড়া বৃষ্টি ও পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা ও সিডিএ আবাসিক এলাকায় হাঁটুপানি জমে যায়।

একই দুরবস্থায় পড়েছেন হালিশহর, আগ্রাবাদ, চকবাজার, বারইপাড়া, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, পুরাতন চান্দগাঁও, খাজারোড, বাকলিয়া ডিসি রোড এলাকার বাসিন্দারাও। জলাবদ্ধতার কারণে কঠোর বিধিনিষেধে ঘরবন্দি লোকজনের দুর্ভোগ চরমে উঠে।

আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. সেকান্দার বলেন, সামান্য বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে অনেক বাসা-বাড়িতেও পানি ডুকে গেছে। কাউকে হাসপাতালে নিতে হলেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এছাড়া জোয়ারের পানিতে দুপুর থেকে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের নিচ তলা। ফলে শিশু ওয়ার্ড, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, জেনারেল ওয়ার্ড ও প্রশাসনিক কার্যালয় বন্ধ করে হাসপাতালের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলায় স্থানান্তর করা হয়।

বহির্বিভাগ স্থানান্তর করা হয় নতুন ভবনে। শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের স্থানান্তর করা হয়েছে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। এ সময় রোগী ও স্বজনরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন। বেশ কয়েকবার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল এ হাসপাতালে।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ট্রেজারার মো. রেজাউল করিম আজাদ বলেন, দুপুর থেকে হাসপাতালের নিচ তলায় হাঁটু পর্যন্ত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে রোগী-স্বজনরা যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েন। তবে চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৩ জুলাই চট্টগ্রামসহ দেশের চার সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছিলো। এরপর থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত