ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ২২ মিনিট আগে

ত্রাণ চাওয়ায় বৃদ্ধাকে গলাধাক্কা, সেই চেয়ারম্যান স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার

  লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২১, ১৮:৪৬

ত্রাণ চাওয়ায় বৃদ্ধাকে গলাধাক্কা, সেই চেয়ারম্যান স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার
চেয়ারম্যান শওকত আলী ও শতবর্ষী বৃদ্ধা (ডানে)
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

ত্রাণের স্লিপ চাওয়ায় শতবর্ষী বৃদ্ধাকে গলাধাক্কা দিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত-জখম করার ঘটনায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে আদিতমারী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে গত সোমবার (১৯ জুলাই) রাতে আহত শতবর্ষী বৃদ্ধা আলেমা বেওয়ার ছেলে নুরুজ্জামান বাদী হয়ে চেয়ারম্যান শওকত আলী, তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) ও মেয়ে সুহিন আক্তারের (১৯) বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

বৃদ্ধা আলেমা বেওয়া উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি মদনপুর গ্রামের মৃত ছপির উদ্দিনের স্ত্রী ও রিকশাচালক নুরুজ্জামানের মা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অতি দরিদ্র আলেমা বেওয়া রিকশাচালক ছেলে নুরুজ্জামানের সংসারে বসবাস করেন। সম্প্রতি করোনার লকডাউনে রিকশাচালক ছেলের আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় নিদারুণ অর্থকষ্টে পড়ে পরিবারটি। ঈদের কিছুদিন আগে পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী ত্রাণ দেয়ার কথা বলে বৃদ্ধা আলেমার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেন। সেই ত্রাণ নিতে সোমবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকেন চেয়ারম্যান।

সকালে পান্তা ভাত খেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চলে যান আলেমা। তখন চেয়ারম্যান তার বাড়িতে রাখা স্লিপ নিয়ে আসতে বললে বৃদ্ধা পরিষদের পাশে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। সেখানে দুপুর পর্যন্ত স্লিপের জন্য অপেক্ষা করেন। এরই মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষ করে চেয়ারম্যান বাড়িতে চলে আসলে স্লিপ দাবি করেন বৃদ্ধা। এ সময় চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) ও মেয়ে সুহিন আক্তার (১৯) বৃদ্ধা আলেমাকে গলা ধাক্কা দিলে মেঝেতে পড়ে যান। এ সময় তার দাঁত ভেঙে রক্ত ঝরতে থাকে এবং হাত-পা ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

বিপদ দেখে দ্রুত পল্লী চিকিৎসক নিয়ে নিজ বাড়িতে আলেমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বের করে দেন চেয়ারম্যান। মায়ের অসুস্থতার খবরে রিকশাচালক ছেলে নুরুজ্জামান স্থানীয়দের সহায়তায় বৃদ্ধা মাকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধার ছেলে নুরুজ্জামান বাদী হয়ে চেয়ারম্যান শওকত আলীকে প্রধান অভিযুক্ত করে চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও মেয়ের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ান আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। বৃদ্ধাকে অর্থসহায়তাসহ ন্যায়বিচার পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

অন্যদিকে অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে থানা পুলিশ। সেই মামলায় বুধবার সকালে স্ত্রী আনোয়ারা বেগমসহ চেয়ারম্যান শওকত আলীকে আদিতমারী থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ মামলায় চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে মধ্যরাতে নিজ বাড়িতে সালিশ বৈঠকে স্ত্রী-সন্তানের সামনে এক ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের অভিযোগে আদিতমারী থানায় চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন আহত ব্যবসায়ী। অভিযোগটি রহস্যজনকভাবে নথিভুক্ত হয়নি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত