ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ১৯ মিনিট আগে

দাম ভালো পেলেও পাটের জাগ নিয়ে বিপাকে চাষিরা

  জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২১, ১৬:০৮

দাম ভালো পেলেও পাটের জাগ নিয়ে বিপাকে চাষিরা
ছবি- প্রতিনিধি
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটে এবার ব্যাপক পরিমান জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। ফলন ভালোসহ বর্তমানে বাজারে ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষকরা। বিঘাপ্রতি জমিতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন কৃষকরা। তবে আশেপাশের খাল, ছোট ছোট পুস্কুনি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট পঁচানোর জন্য জাগ দেয়ার জায়গা সঙ্কটে কিছুটা বিপাকে তারা।

সরেজনিনে দেখা গেছে, করোনা মহামারির এই সময়ে সোনালী আঁশ হিসেবে পরিচিত এই পাট নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন জয়পুরহাটের কৃষকরা। গত কয়েক বছর ধরে পাটের আবাদ করে লাভবান হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকে পড়ছেন এই চাষে। পোকার সংক্রমণ ও তেমন রোগবালাই না লাগায় এবার পাটের ফলনও হয়েছে ভালো। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় ৭০ ভাগ পাট কাটা শেষ হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, বিঘাপ্রতি জমিতে পাট চাষ করতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২৭শ' থেকে ২৮শ' টাকা পর্যন্ত। তবে তাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাট পঁচানোর জন্য জাগ দেয়ার জায়গা নিয়ে। আশেপাশের খাল ও ছোট ছোট পুস্কুনিগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কমে গেছে জাগ দেয়ার পর্যাপ্ত জায়গা। এতে কিছুটা বিপাকে তারা।

সদর উপজেলার চকশ্যাম গ্রামের পাটচাষি আজিজার রহমান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বিঘাপ্রতি জমিতে ৮-১০ মণ পাট হয়। এবার শ্রমিকের অনেক সঙ্কট। আমার এক বিঘা জমিতে প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। পাট কাটা শুরু করছি। আশা করি ভালো দাম পাবো।

হাতিল হাজিপাড়া গ্রামের কৃষক রুবেল হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ভালো দাম পেলে ২৫ হাজারের মতো বিক্রি হয় বিঘাপ্রতি। আর ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমানে পাট কেটে জাগ দেবো কোথায় সেই জায়গা পাচ্ছি না। আশেপাশের যেসব ছোট ছোট পুকুর, খাল ছিল সেগুলো ভরাট করে মানুষ আবাদি জমি করছে। নদীতে দিলে ভেসে চলে যায়। তাই আমাদের খুব সমস্যা পাট নিয়ে।

বেল আমলা গ্রামের নজরুল ইসলাম ও আব্দুল গফুর মন্ডল বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। ২৭শ' টাকা করে মণ পাট বিক্রি হচ্ছে। তবে পাট জাগ দেবো, এই জায়গা আমাদের নেই। ছোট পুকুর, খাল অনেকটা কমে গিয়েছে। যেগুলোও আছে তাতে মাছ চাষ করায় পাট জাগ দিতে দেয় না। এমন হতে থাকলে আগামীতে পাটের চাষ অনেক কমে যাবে।

হাতিল গ্রামের গোলাম মোস্তফা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, পাট জাগ দেয়ার জায়গা না থাকায় জমি থেকে ৪-৫ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে। এতে যানবাহন খরচ ও শ্রমিকের খরচ বেশি পড়ছে। বাজার যদি ৩ হাজার থেকে ৩৫শ' করে থাকতো তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো। এছাড়াও পাট জাগ দেয়ার ব্যবস্থা হলে চিন্তামুক্ত হতাম।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স.ম মেফতাহুল বারী বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, জেলায় এবার ৩ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২শ' হেক্টর বেশি। ইতিমধ্যে প্রায় ২৩শ' হেক্টর জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে। বিঘাপ্রতি গড় ফলন ৮ মণ। বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পাট চাষে কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণসহ সব ধরণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত