ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ৩৪ মিনিট আগে

এলডিসি উত্তরণে বিদেশি অর্থায়ন কমবে: জলবায়ু বিশেষজ্ঞ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৪

এলডিসি উত্তরণে বিদেশি অর্থায়ন কমবে: জলবায়ু বিশেষজ্ঞ
ফাইল ফটো
নিজস্ব প্রতিবেদক

এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে জলবায়ু অর্থায়ন কমবে বলে আশঙ্কা করছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তাই স্থানীয় খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার একশনএইড বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত ‘স্টেকহোল্ডার কনসাল্টেশন অন বাংলাদেশ ক্লাইমেট বাজেট (২০২১-২২)’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এই পরামর্শ দেন বক্তারা।

সভায় জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, পরামর্শক, আলোচক, সাংবাদিক এবং স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যার বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় যে বাজেট বরাদ্দ করা হয় তা বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় খুবই অপ্রতুল।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স এন্ড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. মিজান আর খান বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে জলবায়ু অর্থায়ন কমে যাবে। জলবায়ু অর্থায়নের ৮৫ ভাগ বরাদ্দ আসে স্থানীয় খাত থেকে, তাই স্থানীয় খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একইসাথে নিজেদের টাকা কিভাবে খরচ হচ্ছে তা সচ্ছতা ও জবাবদীহিতার মধ্যে রাখতে হবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ফেরদৌসি বেগম বলেন, যে কোন দুর্যোগে নারী ও শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই আমাদের চেষ্টায় আছে কিভাবে নারী ও শিশুবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা যায়। এসময় সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জলবায়ু সংকট নিরসনে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

একশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, আমরা এখন করোনা, জলবায়ু ও অর্থনীতি এমন ত্রিমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছি। অথচ এখনো জলবায়ু অর্থায়নে বিশ্ব জুড়ে নেতৃত্ব, ঐক্যমত, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ ও বরাদ্দের বড় ফাঁক রয়ে গেছে। যেকোন প্রকল্পে শুরুতেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মাথায় রেখেই করতে হবে।

সভায় গত বছরের তুলনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য জলবায়ু বাজেট বরাদ্দ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সরকারকে নতুন করে অতিরিক্ত অর্থায়ন করার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া ডিজিটাল রিস্ক ম্যাপিং, ইনডেক্স তৈরি, লিঙ্গ সংবেদনশীলতা এবং মানবাধিকার বিষয়সহ জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেয়ার কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ঝুঁকি মোকাবেলায় অভিযোজন ও সাম্যবস্থা নিশ্চিত করতে সকলকে আরও বেশি মনোযোগী ও একটি যৌথ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে নীতি নির্ধারকদের সমবেতভাবে কাজ করার আহ্বানও করেন তারা।

বাংলাদেশ/এমআর/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত