ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ১৩ মিনিট আগে

শিক্ষিকা স্ত্রীর মামলায় কাস্টমস কর্মকর্তা স্বামী কারাগারে

  জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২৮

শিক্ষিকা স্ত্রীর মামলায় কাস্টমস কর্মকর্তা স্বামী কারাগারে
কাস্টমস কর্মকর্তা জুবায়ের রহমান
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটে স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় স্বামী কাস্টমস কর্মকর্তা জুবায়ের রহমানকে (৩২) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে স্ত্রী খাইরুন নেছার মামলায় তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। পরে জয়পুরহাট চিফ জুডিসিয়াল আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর আলম জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট জজ কোর্টের ইন্সপেক্টর আব্দুল লতিফ খান।

জুবায়ের রহমান সাতক্ষীরা সদর পলাশপোল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা। তিনি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ বছর প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৪ সালে স্কুলশিক্ষিকা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বিনইল গ্রামের আজগর আলীর মেয়ে খাইরুন নেছার সাথে কাস্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট অফিসের রাজস্ব কর্মকর্তা জুবায়ের রহমানের বগুড়া নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেফিটের মাধ্যমে বিয়ে হয়। এরপর তারা বগুড়া শহরের কলোনী এলাকায় বসবাস শুরু করেন।

২০১৮ সালে তার স্ত্রী গর্ভবতী হলে বেকার থাকার অজুহাতে স্ত্রীকে গর্ভপাত করান স্বামী। পরে স্ত্রীর পরিবার বিষয়টি টের পাইলে জুবায়েরকে কাবিনমূলে বিয়ে করতে বলে। ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর ১৬ লক্ষ টাকা দেনমোহরে বগুড়ার কাহালু পৌরসভার কাজী অফিসে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে করেন। জুবায়ের বেকার বলে তার বিয়ে পরিবার মেনে নেবে না মর্মে অজুহাত দেখিয়ে বিয়ের সময় তিনি তার ঘনিষ্টজন কাউকেও হাজির করেননি। এমন অবস্থায় তার স্ত্রী সেই বাড়ি ছেড়ে দিয়ে বাবার বাড়িতে যান এবং সেখানে প্রতিনিয়তই জোবায়ের শশুরবাড়ি হিসেবে যাতায়াত করতেন এবং স্বামী-স্ত্রী একসাথে বসবাস করতেন। পরে তার পরিবার বিষয়টি জানতে পারে।

এদিকে পরে জুবায়েরের একটি ব্যাংকে চাকরি হয়। স্ত্রী তাকে তার বাড়িতে তুলে নেয়ার জন্য বললে তিনি বারবার আশ্বাস দেন। এক পর্যায়ে তিনি অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ বিষয়টি গোপন রেখে তিনি তার শশুরবাড়িতে যাতায়াত করতেন। এরই মাঝে তিনি তার স্ত্রীর স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক বাড়ির ওয়ারড্রব থেকে চুরি করে নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় কালাই থানায় একটি মামলা হয়েছে।

পরে প্রথম বিয়ে গোপন করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার জামুকী গ্রামের খাতিজাতুল কোবরা নামে এক নারীকে ২য় বিয়ে করেন তিনি। সেই নারী প্রথম স্ত্রীর কথা জানতে পারলে তার সাথে বিচ্ছেদও হয়।

এদিকে এক পর্যায়ে জুবায়ের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় খাইরুন নেছার সাথে। পরে স্ত্রী তাকে বারবার ফোনে অনুরোধ করলে তিনি শশুরবাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুক দিতে অপরাগত প্রকাশ করলে জুবায়ের লাঠি দিয়ে স্ত্রীকে মারপিট করে গুরুতর আহত করেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তার নামে আদালতে একটি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা করেন।

পরে ঘটনাটি মীমাংসা করার জন্য পুনরায় সেখানে আসলে আবারও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। স্ত্রী এতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করে চলে যায়। পরে খাইরুন নেছা আদালতে যৌতুক আইনে একটি মামলা করেন। এ মামলার ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য করা হয়। আদালতে এসে জুবায়ের জামিন আবেদন করলে আদালত নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত