ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : ২০ মিনিট আগে

সাতক্ষীরায় নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:০৪

সাতক্ষীরায় নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে
নির্বাচন কমিশন
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রথম ধাপে স্থগিত হওয়া নির্বাচন আগামি ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সাতক্ষীরার তালা ও কলারোয়া এই দু’টি উপজেলার মোট ২১টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজে মূখরিত হয়ে উঠেছে গ্রামঞ্চল। এর মধ্যে কলারোয়ার উপজেলার হেলাতলা ও তালা উপজেলার খলিলনগর, তেঁতুলিয়া ও তালা সদর এই চার ইউনিয়নে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করায় জাতীয়পার্টি, আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে কোন কোন ইউনিয়নে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচন ঘিরে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।

দু’টি উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ১১টি ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার ধানদিয়া, নগরঘাটা, সরুলিয়া, খলিষখালী, ইসলামকাটি, মাগুরা, তেঁতুলিয়া, তালা সদর, খলিলনগর, জালালপুর ও খেরসা এই ১১ ইউনিয়নে মোট ৪৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়ছেন।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান ,মেম্বর ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মোট ৪৫৫ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীসহ মোট ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন ও জালালপুর ইউনিয়নের এম মফিদুল হক লিটু দীর্ঘ দুই বার চেয়ারম্যানের পদ ধরে রেখেছেন। এবারও তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ছেন।

এছাড়া তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। কলারোয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে কয়লা, হেলাতলা, যুগীখালী, জয়নগর, জালালাবাদ, লাঙ্গলঝাড়া, কেঁড়াগাছি, সোনাবাড়ীয়া, চন্দনপুর ও দেয়াড়া ইউনিয়নসহ মোট ১০টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ১০ ইউপিতে মোট ৩৮ জন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ১৩ জন। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান,মেম্বর ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মোট ৩৮৬ জন প্রার্থী লড়ছেন। তালা ও কলারোয়ার অধিকাংশ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

শেষ মূহুর্তে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দারে দারে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। তবে সহিংসতা মুক্ত অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ ভোটার ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মতিয়ার রহমান জানান এলাকার উন্নয়নে নৌর কোন বিকল্প নেই।

প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রব পলাশ জানান, নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আমরা চাই সুষ্ঠ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হোক।

তালা সদর ইউনিয়নের জাতীয়পার্টির প্রার্থী সাংবাদিক এস এম নজরুল ইসলাম জানান, তালা সদর ইউনিয়নে যেহেতু ইভিএম এ নির্বাচন হবে। সেহেতু আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী সরদার জাকির হোসেন পেশিশক্তি প্রদর্শন করছেন। লাঙ্গল প্রতিকের কর্মী ও সমর্থকদের উপর হামলা চালাচ্ছে। সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য তিনি পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জালালপুর ইউনিয়নের আনারস প্রতীকের বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী এম মফিদুল হক জানান, তার ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী মুক্তি তার কর্মী ও সমর্থকদের উপরে প্রতিনিয়ত হামলা চালাচ্ছে। ভোট সেন্টারে সহিংসতা ঘটাতে পরে। তার কর্মী সমর্থক ও ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়া হবে বলে হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে। সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নৌকার প্রার্থী রবিউল ইসলাম মুক্তি। তিনি জানান অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন হলে তিনি বিজয়ী হবেন।

সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল কবীর জানান, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে। সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসনসহ আইন শৃংখলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে আছে।

সাতক্ষীরার তালা ও কলারেরায়া উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৯৪ জন ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত