ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : ১ মিনিট আগে

গুম হওয়া ব্যক্তিকে ৯ বছর পর ঢাকা থেকে উদ্ধার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০৩  
আপডেট :
 ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:২১

গুম হওয়া ব্যক্তিকে ৯ বছর পর ঢাকা থেকে উদ্ধার
প্রতিকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশালের গৌরনদীর এক নারী নিজের ছেলেকে ঢাকায় লুকিয়ে রেখে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমের মামলা দেন। ৯ বছর আগে করা ওই মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হাজতবাসসহ নানা হয়রানি শিকার হন। অবশেষে তারা লুকিয়ে রাখা সেই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করেছেন। ওই ব্যক্তির নাম রাসেল মৃধা। তিনি এখন পুলিশ হেফাজতে আছে।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাসেলকে থানা পুলিশের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বুধবার সকালে তাকে বরিশাল আদালতে সোপর্দ করা হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া গ্রামের মরিয়ম বেগম ও তার স্বামী জালাল মৃধা নিজের সপ্তম শ্রেণি পড়ূয়া ছেলেকে ঢাকায় লুকিয়ে রাখেন। এরপর ২০১২ সালের ১৪ মে প্রতিপক্ষ এস রহমান মৃধা ও তার নাবালক দুই ছেলেসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও গুমের মামলা করেন।

মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের আসামিরা ওই বছরের ৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে তার ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রাসেল মৃধাকে মারধর করে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। ওই মামলার ১৪ জন আসামিরা হাজতবাসসহ নানা হয়রানি-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একজন আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আসামিদের মধ্যে একজন পলাতক এবং বাকিরা জামিনে আছেন।

এস রহমান মৃধার স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, মামলায় হাজতবাসসহ নানা হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে তাদের পরিবার নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিন ছেলের শিক্ষাজীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এই হয়রানি থেকে বাঁচতে তারা রাসেলের চাচাতো সহযোগীতা নেয়। তাদের টাকা দিয়ে জানতে পারেন রাসেল ঢাকায় থাকে। সে যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর রায়েরবাগ এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজে কাজ করে। রাসেলকে সেখান থেকে আনতে তারা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলার সরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই ফোরকান আহাম্মেদের সহযোগিতা চান। কিন্তু তিনি তাদের সহযোগিতা করেননি। পরে তারা নিজেরাই সেখানে গিয়ে রাসেলকে এনে মঙ্গলবার ভোরে গৌরনদী মডেল থানায় সোপর্দ করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে সরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই ফোরকান আহাম্মেদ বলেন, আমি দুই দিন ধরে জ্বরে ভুগছি। এ অবস্থায়ও আমি খিলগাঁও থানায় ফোন করে আসামিদের সহযোগিতা করছি। গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল একেক সময় একেক রকম তথ্য দিচ্ছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/জেবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত