ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রাথমিকের শিক্ষক-শিক্ষিকার পরকীয়া, এলাকায় তোলপাড়

  পাবনা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:১৩

প্রাথমিকের শিক্ষক-শিক্ষিকার পরকীয়া, এলাকায় তোলপাড়
ছবি: প্রতিনিধি
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা সুজানগর উপজেলার ৩২ নং উদয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকার পরকীয়া প্রেমের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকরা এই অসামাজি কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষেভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

এই শিক্ষক ও শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার দুপুরে উদয়পুর স্কুলের সামনে ঘণ্টাব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

এ সময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উদয়পুর ৩ নং ইউপি সদস্য মেছের মন্ডল, ফজলু প্রামাণিকসহ ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

মানবন্ধনে বক্তরা বলেন, এই বিদ্যালয়ের দুইজন সম্মানিত শিক্ষক আনোয়ার সাদাত মিল্টন ও শিক্ষিকা রোজিনা খাতুন রোজির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছে। তারা শ্রেণিকক্ষের মধ্যেও নানা ধরনের অসামাজি কাজকর্মে লিপ্ত থাকেন। এই দুই শিক্ষকের কারণে আজ আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষকদের অপকর্মের ছবি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি চরম লজ্জাজনক বিষয় সমাজের জন্য, আমাদের জন্য। যাদের কাছে আমাদের সন্তানেরা সুশিক্ষা গ্রহণ করবে তারা নিজেরাই মানসিকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। তারা স্কুলের কমলমতি শিক্ষার্থীদের কিভাবে ভালো কিছু শেখাবে।

এই দুই শিক্ষকের দ্রুত এই স্কুল থেকে অপসরণসহ তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্কুলে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আনার দাবি জানান তারা।

এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আনোয়ার সাদাত মিল্টন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমাকে স্কুল থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য একটি পক্ষ আমার সাথে স্কুলের অন্য শিক্ষিকাকে জড়িয়ে এই অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করছে। এই ধরনের অনৈতিক কাজের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ঘটনার বিষয়ের স্কুলের প্রধান শিক্ষক পূরববী রানী চৌধুরী বলেন, স্থানীয়রা আমাদের কাছে তাদের (দুই শিক্ষক) বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। অপকর্ম আর অনৈতিক কাজের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তারা দেখাচ্ছে। আমরা বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটিই বাস্তবায়ন হবে।

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বার বলেন, এই স্কুলের দুইজন শিক্ষকের পরকীয়ার বিষয়ে আমার কাছে মৌখিকভাবে স্থানীয়রা ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছিলেন। এখন বিষয়টি অনেক বড় আকার ধারন করেছে। এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা বিক্ষোভ করছে। এটি সত্যিই লজ্জাজনক শিক্ষকদের জন্য। অভিভাবকেরা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যারকে অবগত করেছি। অভিভাবেকেরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওপর থেকে নির্দেশনা আসবে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত