ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

ফোনে মিলল সাড়ে ১৮ লক্ষ টাকা ডাকাতির আলামত

  লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১৯

ফোনে মিলল সাড়ে ১৮ লক্ষ টাকা ডাকাতির আলামত
ছবি প্রতীকী
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা এলাকার বহুল আলোচিত সাড়ে ১৮ লক্ষ টাকা ডাকাতির ঘটনার আলামত পেয়েছে পুলিশ। ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন পলাতক এক যুবকের (শাকিল) মোবাইল ফোন থেকে ডাকাতির ঘটনার রহস্য খুঁজে পেয়েছে হাতীবান্ধা থানা পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র মতে, পলাতক শাকিলই এ ঘটনার মুল হোতা। তাকে ধরা গেলেই ঘটনার সাথে কারা জড়িত এবং কিভাবে এ ঘটনা ঘটেছে সেই রহস্যের জট খুলবে। এদিকে লিংকন হোসেন নামে একজন ওই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওই উপজেলার বড়খাতা এলাকায় ওষুধ ব্যবসায়ী একরামুল হকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা বাড়ির দুইজন নারীকে আঘাত করে রশি দিয়ে বেঁধে আলমারী ভেঙ্গে সাড়ে ১৮ লক্ষ টাকা লুট করে পালিয়ে যায় এমন দাবী ঔষধ ব্যবসায়ী একরামুলের।

পুলিশের একটি সুত্রে জানা গেছে, ডাকাতির ঘটনার পর পরই পুলিশ কয়েকজনকে সন্দেহ করে তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালায়। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিবেশী মোমিনের বাড়িতে অভিযান চালালে তার ছেলে শাকিল পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালিয়ে যায়। এসময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। ফোনের বিভিন্ন ম্যাসেজ থেকে অনেকটা নিশ্চিত হয় এ ডাকাতির ঘটনার সাথে শাকিল জড়িত। পরে ওই ফোনের বিভিন্ন ম্যাসেজের সুত্র ধরে লিংকন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের ধারনা, ডাকাতির ঘটনার মুল হোতা শাকিল। তার ব্যবহৃত ফোনে ওই ডাকাতির টাকা ভাগাভাগির নানা ম্যাসেজ পাওয়া গেছে। ডাকাতির ঘটনায় শাকিলসহ ৪/৫ জন জড়িত থাকতে পারে। ডাকাতি হওয়ার টাকার মধ্যে বাকি জড়িতদের কিছু কিছু করে দিলেও বেশি টাকা শাকিল নিজের কাছে রেখেছেন। শাকিলের ঘরে মাটির নিচ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার হলেও বেশি ভাগ টাকা সাথে নিয়েই শাকিল পালিয়ে গেছে এমন দাবী পুলিশের। তবে ডাকাতি হওয়ার অর্থের পরিমান সাড়ে ১৮ লক্ষ টাকা কি না তা এখনো নিশ্চিত হতে পারে নাই পুলিশ। শাকিল’ এ ঘটনা মুল হোতা হলেও তাকে নেপথ্যে প্রভাবশালী কেউ সহযোগিতা করতে পারে এবং ডাকাতি হওয়ার ওই টাকা সেই প্রভাবশালীদের কাছে চলে গেছে এমনটিও ধারনা করছেন নাম না প্রকাশ শর্তে পুলিশের একটি সুত্র।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হাতীবান্ধা থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই ডাকাতির ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে লিংকন হোসেন আদালতে নিজের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি অনেক তথ্য দিয়েছেন। শাকিলের মোবাইল ফোনেও অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। কি ভাবে ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে সেই তথ্য গুলো তদন্ত করা হচ্ছে। শাকিলকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে এ ডাকাতির ঘটনার পুরো রহস্য বের হয়ে আসবে।

লালমনিরহাট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার বলেন, পুলিশ এ ডাকাতির ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ডাকাতির ঘটনার পুরো রহস্য বের করতে সক্ষম হবো।

বাংলাদেশ জার্নাল/ এএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত