ঢাকা, শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : ৪ মিনিট আগে

বেবিচকের অসহযোগিতায় বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষায় বিলম্ব

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৪৯  
আপডেট :
 ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৩৩

বেবিচকের অসহযোগিতায় বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষায় বিলম্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অসহযোগিতায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এখনো করোনার পূর্ণ পরীক্ষা চালু হয়নি। বেবিচকসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়হীনতার কারণে করোনার পরীক্ষার কার্যক্রম বারবার পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। নতুন করে তারিখ ঘোষণা করা হলেও তা সম্ভব হবে কিনা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো বেবিচক বলতে পারবে। এ বিষয়ে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুমোদিত ৬টি প্রতিষ্ঠান তাদের করোনা পরীক্ষাগার স্থাপনের সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। সেগুলো হলো- আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্টেমজ হেলথকেয়ার (বিডি) লিমিটেড, সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার, এএমজেড হাসপাতাল লিমিটেড, গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড এবং ডিএমএফআর মলিকুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক।

স্থাপিত এসব পরীক্ষাগারে ইতিমধ্যে প্রাথমিক পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। সেটি প্রতিবেদন আকারে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা ও সমন্বয়হীনতায় বিমানবন্দরে করোনার পরীক্ষার কার্যক্রম এখনো আটকে রয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, পরীক্ষাগার স্থাপনের পূর্বেও বিভিন্নভাবে অসহযোগিতা করেছে বেবিচক। তারা প্রথমে বহুতল কার পার্কিংয়ের ছাদে পরীক্ষার ল্যাব বসানোর কথা বলেন। পরে আবার বিমানবন্দরের ভেতরে পরীক্ষার ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্ত দেয়। এছাড়াও বিভিন্নভাবে অসহযোগিতার কারণে ল্যাব স্থাপনে বিলম্ব হয়। ছয়টি প্রতিষ্ঠান অনেক কাঠখড় পুরিয়ে বিমানবন্দরের ভিতরে ল্যাব স্থাপনের অনুমতি পেলেও আবার দেখা দেয় জটিলতা।

এবার বলা হয়, নমুনা পরীক্ষার মান যাচাই করে পুনর্বিন্যাসের জন্য পাঠানো হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। সেই অনুযায়ী বিমানবন্দরে স্থাপিত পরীক্ষাগারে পরীক্ষামূলক করোনা টেস্ট শুরু হয়। এজন্য রোববার সকালে ১০০ প্রবাসী কর্মীর নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে স্থাপিত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে তা টেস্ট করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

এ বিষয়ে বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, শনিবার পরীক্ষামূলকভাবে ল্যাবগুলোর কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এবং বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কিছু পর্যবেক্ষণ দেন। সেগুলো আমরা পূরণ করেছি। এখন আমরা করোনা পরীক্ষার জন্য সম্পন্ন প্রস্তুত রয়েছি। স্থাপিত ল্যাবগুলোর পরীক্ষামূলক প্রতিবেদনও সিভিল সার্জেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এখন বাকি বিষয়গুলো তারা বলতে পারবে।

গত আগস্টে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাত্রার ছয় ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে করোনার আরটি-পিসিআর পরীক্ষার শর্ত আরোপ করে। কিন্তু বাংলাদেশের কোনো বিমানবন্দরে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ব্যক্তিরা সে দেশে যেতে পারছেন না। এরমধ্যে প্রবাসী কর্মীদের কারও কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিপাকে পড়ছেন তারা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে দ্রুত করোনার পরীক্ষাগার স্থাপনের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হলেও সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রমে অগ্রগতি ছিল না। অন্যদিকে দ্রুত ল্যাব স্থাপনের জন্য বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে প্রবাসী কর্মীরা। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষাগার স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে আবারও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে বিমানবন্দরে দ্রুত করোনা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ থাকার পরও এখনো বিমানবন্দরে করোনার পরীক্ষা চালু বিলম্বিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার করোনা টেস্টের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিজের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের জন্য বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিতে দফায় দফায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমআর/এফজেড/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত