ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ আপডেট : ১ মিনিট আগে

সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাপ, বেঁচে যাওয়া শিশুটি এখন পঙ্গুতে

  গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ২১:৪৯

সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাপ, বেঁচে যাওয়া শিশুটি এখন পঙ্গুতে
ট্রেনের নিচ থেকে বেঁচে যাওয়া শিশু। ছবি প্রতিনিধি
গাজীপুর প্রতিনিধি

রেললাইনের মাঝে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে আহত দেড় বছরের এক শিশু, ডাকছে মা মা বলে। সামনেই পড়ে আছে মায়ের মরদেহ। কিন্তু হতবিহ্বল শিশুটির ডাক থামছে না।

এ সময় হাজেরা খাতুন নামে এক গৃহবধূ গিয়ে কোলে তুলে নেন শিশুটিকে। মায়ের নিথর মৃতদেহ থেকে কাপড় ছিড়ে বেঁধে দেন শিশুর ক্ষত স্থানগুলো।

বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল সড়কের শ্রীপুর রেলস্টেশনের উত্তরপাশে শিশুকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে দেন মা। এ সময় মা নিহত হলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় শিশুটি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত মা ও আহত শিশুর পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে ময়মনসিংহগামী বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি শ্রীপুর স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় বিরতিহীনভাবে হর্ণ দিচ্ছিল। এলাকার ছেলে-মেয়েরা সে সময় মক্তবে (সকালে মাদ্রাসায়) যায়। এ কারণে মায়েরা সন্তানদের ট্রেন লাইন পার করে দিতে আসেন। এছাড়াও ট্রেনটি অনবরত হর্ন দেওয়ার কারণে অনেকে কৌতুহল নিয়ে উঁকিঝুকি দিচ্ছিলো। ট্রেনটি যখন ঘটনাস্থল অতিক্রম করে তখন তাদের চোখে পড়ে রেললাইনের ঠিক মাঝ থেকে রক্তাক্ত এক শিশু মাথা তুলে মা মা বলে ডাকছে। বার বার উঠার চেষ্টা করেও পারছে না। মায়ের বিচ্ছিন্ন মরদেহ শিশুর খুব কাছেই পড়ে আছে।

হাজেরা খাতুন বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনের নিচ থেকে শিশুটির বেঁচে যাওয়া বিস্ময়কর। দৌড়ে কাছে গিয়ে দেখি শিশুটির বাম হাতের বাহু থেকে কুনুই পর্যন্ত কিছু মাংস থেতলে পড়ে গেছে। মাথায় রক্তাক্ত জখম।”

হাজেরা খাতুন জানান, শিশুটিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর চিকিৎকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শিশুটিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

হাজেরা খাতুনের স্বামী আবু হানিফা বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় আমার এক ভাইয়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নিয়েছি। এ সময় শ্রীপুর বাজারের সহৃদয়বান অনেকেই শিশুর চিকিৎসার জন্য কিছু কিছু আর্থিক সহায়তা করেছেন। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা কিছুটা চিকিৎসা দেয়ার পর শিশুর ক্ষতস্থানে মাংস লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন এবং ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছেন।”

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুটিকে পঙ্গু হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘কামরুল হাসান (৭) নামে আমার একটি ছেলে আছে। এই শিশুটিকে আমার স্ত্রী সন্তানের স্নেহে লালন-পালন করতে চান। যদি বৈধ অভিভাবক এসে নিয়ে যেতে যান, সেক্ষেত্রে কোনো বাধা তবে। তবে শিশুটি পাশে থাকতে পারলে আমি শান্তি পাবো।’

শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার হারুনুর রশিদ জানান, সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে আনুমাণিক দেড় বছর বয়সী শিশু কন্যাকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয় এক নারী। এতে ঘটনাস্থলেই নারীর শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা শিশু কন্যাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এখনো হতাহত মা-শিশুর পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ জার্নাল/জেবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত