ঢাকা, বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : ২ মিনিট আগে

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী হারিকেন

  সাইফুল ইসলাম সায়েম, রাঙ্গাবালী থেকে

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১৪:৪৩

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী হারিকেন
বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী হারিকেন। ছবি: প্রতিনিধি।
সাইফুল ইসলাম সায়েম, রাঙ্গাবালী থেকে

শৈশব জীবনে বিদ্যুৎবিহীন চরাঞ্চলে আলোর চাহিদা মিটানো একমাত্র অবলম্বন ছিল হারিকেন। হারিকেন গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী প্রতীকগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই হারিকেন আজ বিলুপ্তির পথে।

বিদ্যুৎহীন চরাঞ্চলে রাতের অন্ধকার দূর করতে এক সময় মানুষের অন্যতম ভরসা ছিল হারিকেন। যার অন্যতম জ্বালানি উপাদান ছিল কেরোসিন। তখনকার সময় চরাঞ্চলে রাতে মাছ ধরা, বিয়ে-সাদি, যাত্রাগান, পালাগান, মঞ্চ নাটক কিংবা বাড়িতে দোয়ার অনুষ্ঠান করা হতো হারিকেনের আলোয়।

হারিকেন জ্বালিয়ে বাড়ির উঠানে কিংবা ঘরের বারান্দায় ভাই-বোন একসাথে পড়াশোনা করতো। ডাক পিয়নরা চিঠির বোঝা পিঠে করে হাতে হারিকেন নিয়ে চরাঞ্চলে ছুটে চলতো। হারিকেনের জ্বালানি উপাদান কেরোসিন আনার জন্য কাচের বোতল ছিল। সন্ধ্যার আগেই হারিকেনের কাছ মুছে তেল ভরে জ্বালানো হতো।

বিদ্যুৎহীন চর অঞ্চলের ইতিহাসে অন্ধকার রাতে হারিকেনের মিটি মিটি আলো জ্বালিয়ে পথ চলার স্মৃতি কার না মনে পড়ে। রাতে চলায় পথের একমাত্র নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হারিকেন।

দেশ পরিচালনার দায়িত্বে উচ্চ পর্যায়ে ছিলেন কিংবা আছেন যারা তাদের অনেকেই এই হারিকেন কিংবা কুপির মৃদু আলোর সাহায্যে লেখা পড়া করেছেন। ব্যবসা ও গৃহস্থালির কাজেও হারিকেনের ব্যাপক চাহিদা ছিল।

বাহেরচর গ্রামের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, ছোটবেলায় আমরা ল্যাম্প কিংবা হারিকেনের মৃদু আলোয় লেখাপড়া করেছি। বাতাসের ঝাপটায় কখনও কখনও আলো নিভে গেছে। আবার দিয়াশলাই অথবা চুলার আগুনে পাটকাঠি দিয়ে আলো জ্বালিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, হারিকেনের আলো মৃদু হলেও সেই সময় শিক্ষার্থী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের চোখের তেমন সমস্যা হতো না। কিন্তু আজ বিদ্যুতের আলোর ঝলকানিতে শিশু ও প্রবীণদের চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হারিকেন এখন শুধুই স্মৃতি। নতুন প্রজন্ম হয়তো হারিকেন সম্পর্কে জানবে না, পড়তে হবে ইতিহাস। হয়তো এক সময় হারিকেনেরে দেখা মিলবে বাংলার জাদুঘরে।

সমাজ পরিবর্তন, বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় চর অঞ্চলের সেই ঐতিহ্যবাহী হারিকেন এখন বিলুপ্তির পথে। বৈদ্যুতিক বাতি, চার্জার ও বিদ্যুতের নানা ব্যবহারের ফলে হারিকেনের ব্যবহার আজ আর দেখা যায় না।

উপকূলীয় অঞ্চলে এখন হারিকেন যেমন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর তেমনি বিদ্যুৎ নেই এমন চরঞ্চল হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে হারিকেনের জায়গা দখল করে নিয়েছে সৌর বিদ্যুতের আলো বা চার্জার লাইট। চরঞ্চলে এখনও দু-এক বাড়িতে হারিকেন পাওয়া গেলেও দেখা যায় ব্যবহার না করায় সেগুলোতে ময়লা ও মরিচা পড়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত