ঢাকা, বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : ৫ মিনিট আগে

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সর্বস্ব কেড়ে নিত চক্রটি

  নিজস্ব প্রতেবদক

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৫২  
আপডেট :
 ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:০০

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সর্বস্ব কেড়ে নিত চক্রটি
নিজস্ব প্রতেবদক

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিদেশ থেকে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। আর এ সময়ে প্রবাসীদের টার্গেট করে ছিনতাই ও ডাকাতিতে নেমেছে একটি চক্র। শনিবার রাতে হাতিরঝিল থানার মীরবাগ এলাকা থেকে এ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ এর গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের একটি টিম।

এ সময় গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ৫ টি পাসপোর্ট, ২টি এনআইডি কার্ড, ২টি এটিএম কার্ড, ১টি আইপ্যাড, ১টি ওয়ার্ক পারমিট কার্ড, ১টি বিএমইটি কার্ড, ১টি অফিস আইডি কার্ড, ১টি স্টীলের চাকু ও নগদ ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলো- মো. মাসুদুল হক ওরফে আপেল, মো. আমির হোসেন হাওলাদার ও মো. শামীম।

গ্রেপ্তারের পর রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রবাসী মো. লিটন সরকার দীর্ঘ ৫ বছর পর মিশর থেকে তুর্কি এয়ারলাইন্সযোগে দেশে আসেন। তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল থেকে বের হয়ে বিমানবন্দর গোল চত্ত্বরে ফুটওভার ব্রিজের নিচে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত ৫-৬ জন লোক ধারালো চাকুর ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে থাকা হ্যান্ডব্যাগ ও লাগেজ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। হ্যান্ডব্যাগ ও লাগেজে তার একটি পাসপোর্ট, মিশরের ভিসা, বিমানের টিকিট, স্বর্ণের চেইন, ২টি মোবাইল সেট, স্মার্ট কার্ড, প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড়সহ নগদ ৪০ হাজার টাকা ছিল।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, পরবর্তীতে ডাকাত দলের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে ঘটনাস্থল থেকে একটি বাসে তুলে ঘটনার বিষয়ে কাউকে কোন কিছু না জানানোর জন্য ভয়-ভীতি, হুমকি প্রদর্শন করে। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগে গত ১৫ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়। এই মামলার তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগ।

তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তকালে গোয়েন্দা তথ্য উপাত্ত্ব বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এই ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে মাসুদুল, আমির হোসেন ও শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, বিমানবন্দরে গাড়ির জন্য অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীদের সহযোগিতার নামে গাড়িতে তুলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। আবার কখনো প্রবাসীদের সাথে প্রথমে সখ্যতা গড়ে তোলে চক্রটি। এরপর চক্রটির অন্য সদস্যরা টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে সুকৌশলে চেতনানাশক মিশ্রিত খাবার খাইয়ে অচেতন করে মূল্যবান সব জিনিসপত্র নিয়ে দ্রুত সটকে পরে। এ চক্রের সদস্যরা খাদ্যদ্রব্য হিসেবে চা, কফি, জুস, ডাবের পানি ইত্যাদি ব্যবহার করে।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে মর্মে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান।

এফজেড/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত