ঢাকা, শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

ফ্লাইওভারের পিলারে ফাটল পাননি ডিপিএম বিশেষজ্ঞরা

  চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৩২

ফ্লাইওভারের পিলারে ফাটল পাননি ডিপিএম বিশেষজ্ঞরা
ছবি- প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটে এমএ মান্নান ফ্লাইওভারের র‌্যাম্পের পিলারে কোনো ফাটল পাননি বলে জানিয়েছেন নকশা প্রণয়নকারি প্রতিষ্ঠান ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (ডিপিএম) কনসালটেন্টস লিমিটেডের বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) র‌্যাম্পটি পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান তারা।

ডিপিএম কনসালটেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এম এ সোবহান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাটলের মতো যেসব ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, তা মূলত কনস্ট্রাকশন জয়েন্ট। আর সাটারিংয়ের জন্য দেয়া ফোম বের হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, যেহেতু একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাই আরও গভীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর পর্যবেক্ষণসহ প্রতিবেদন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দেয়া হবে।

এসময় কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলে ছিলেন ডিপিএমের পরিচালক প্রকৌশলী শাহজাহান আলম ও সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার সামি মোহাম্মদ রেজা।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় এক পথচারী পিলারের ওপরের অংশে বড় একটি ফাটল দেখতে পেয়ে ফেসবুকে সেটি নিয়ে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্ট পুলিশের নজরে আসার পর তারা বহদ্দারহাট মদিনা হোটেলের সামনের ফ্লাইওভার পর্যবেক্ষণ করে একটি পিলারের ওপরের অংশে বড় একটি ফাটল শনাক্ত করে। এরপর যেকোনো ধরণের ঝুঁকি এড়াতে রাত ১০টা থেকে ফ্লাইওভারের এ অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

ফাটলের খবর পেয়ে রাতেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ও স্থানীয় দুই কাউন্সিলর এবং চান্দগাঁও থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তারাও পিলারের নিচের অংশে থাকা অস্থায়ী দোকান ও বিভিন্ন গাড়িগুলো সরিয়ে দেন। পাশাপাশি একটি পিলারের অংশে ব্যারিকেড দিয়েও রাখা হয়।

প্রসঙ্গত, যানজট নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নগরের শুলকবহর থেকে বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত এম এ মান্নান ফ্লাইওভার (বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার) নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

নির্মাণের চার বছর পর এম এ মান্নান ফ্লাইওভারে আরাকান সড়কমুখী একটি র‍্যাম্প যুক্ত করেন সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। র‍্যাম্প ব্যবহার করে নগরের মুরাদপুর থেকে আসা গাড়িগুলো চান্দগাঁও ও বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের দিকে একমুখী চলাচল করে। পরে এই ফ্লাইওভারসহ চারটি ফ্লাইওভার ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চসিককে হস্তান্তর করে সিডিএ।

২০১২ সালের নভেম্বরে ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসের ঘটনায় ১৪ জন নিহত হলে এর নির্মাণ কাজ তদারকির দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নির্মাণকাজ শেষে ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তবে উদ্বোধনের পর ফ্লাইওভারটি কার্যকর না হওয়ায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আরাকান সড়কমুখী র‍্যাম্প নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিডিএ। ৩২৬ মিটার দীর্ঘ এবং ৬ দশমিক ৭ মিটার চওড়া র‍্যাম্পটি নির্মাণ শেষে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। র‌্যাম্পটিতে ১৪টি পিলার রয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত