ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

ইউপি চেয়ারম্যানের নির্যাতন

বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে বীরাঙ্গনা জাহানারা

  আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২১, ১০:৫১

বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে বীরাঙ্গনা জাহানারা
বীরাঙ্গনা জাহানারা বেগম। ছবি: প্রতিনিধি
আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ৬নং পীরগঞ্জ ইউনিয়নের বিশমাইল গ্রামের বীরাঙ্গনা জাহানারা বেগম চেয়ারম্যান দ্বারা নির্যাতনের এক বছর পার হয়ে গেলেও কোন বিচার পাননি।

বিচারের দাবিতে এখনো সেই বীরাঙ্গনা কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এছাড়াও চেয়ারম্যান তার সন্তানদের মেরে ফেলার হুমকির কারণে ভয়েও রয়েছেন তিনি।

বীরাঙ্গনা জাহানারা বেগম জানান, একবছর আগে ত্রাণের চাল নেয়ার জন্য তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে যান।

৬নং পীরগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম তাকে চাল না দিয়ে তার ওপর কোন কারণ ছাড়াই সকলের সামনে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দেন। এবং উপস্থিত অনেকের সামনে আমার দুইগালে একাধিক চড়থাপ্পড় দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাড়িয়ে দেন।

এরপরে এ বিষয়ে ইউএনও বরাবরে চেয়ারম্যানের এমন কার্যকলাপের নালিশ নিয়ে গেলে ইউএনও বিষয়টি দেখার আশ্বাস প্রদান করেন এবং ৫শত টাকা হাতে দিয়ে চলে যেতে বলেন।

এরপর চেয়ারম্যান বীরাঙ্গনাকে হুমকি দেন বেশি বাড়াবাড়ি করলে তার সন্তানদের মেরে ফেলবে বলে।

তারপরেও সমাজের অনেকের কাছে গেলেও কোন বিচার পাননি। কিন্তু চেয়ারম্যান সেই অপমানের বোঝা আজো মাথায় বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে নির্যাতিত বীরাঙ্গনা জাহানারা বেগম।

ওই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, চেয়ারম্যানের আগে কিছুই ছিল না। তার বাবা ছিলেন কানি পাইকার। হঠাৎ করে চেয়ারম্যান হওয়ায় গরিবের চাল চুরি করে আলিশান বাড়ি বানিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদে কোন নালিশ নিয়ে গেলেই টাকা লাগবে চেয়ারম্যানের। কোন কাজ করাতে টাকা লাগে। এই চেয়ারম্যানের অত্যাচারে অতিষ্ট পুরো এলাকাবাসি।

এছাড়াও কিছুদিন আগে চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম এর বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের সাথে অসদাচারণ ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে অনাস্থা অভিযোগ দিয়েছিল ওই ইউনিয়নের ১১জন ইউপি সদস্য।

এবিষয়ে চেয়ারম্যান মাহাবুব হোসেনের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই না। ওই মহিলা একটা ফালতু মহিলা।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ওই চেয়ারম্যান একজন উদ্ভট প্রকৃতির মানুষ। আইন কানুন কোন তোয়াক্কা করেন না। আমি চেয়ারম্যানকে নির্যাতনের স্বীকার বীরাঙ্গনা জাহানারার সমস্যাটি সমাধানের জন্য একাধিকবার বলেছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত