ঢাকা, শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮ আপডেট : ১১ মিনিট আগে

চাচাকে বিপুল ভোটে হারিয়ে মেয়র হলেন ভাতিজা

  পাবনা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২১, ২০:৪৭

চাচাকে বিপুল ভোটে হারিয়ে মেয়র হলেন ভাতিজা
বামে ভাতিজা, ডানে চাচা
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার বেড়া পৌরসভায় চাচাকে বিপুল ভোটে হারিয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী তরুণ নেতা অ্যাডভোকেট আসিফ শামস রঞ্জন। যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এই রঞ্জন পেয়েছেন ২১ হাজার ৮৮৩ ভোট এবং তার চাচা সাবেক মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল বাতেন (নারিকেল গাছ) পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৬০ ভোট।

রোববার এ নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্য ৩ জনের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী এএইচএম ফজলুর রহমান মাসুদ (রেল ইঞ্জিন) পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৭৯, কেএম আব্দুল্লাহ (জগ) ৮১৭ এবং সাদিয়া আলম (মোবাইল ফোন) পেয়েছেন ২২৫ ভোট।

এদিকে এই নির্বাচনের মাধ্যমে বেড়া পৌরসভায় দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রতাপশালী আলহাজ্ব আব্দুল বাতেন তার গদি হারালেন তারই পুত্রসম আপন ভাতিজার কাছে। বাতেন নির্বাচন ছাড়াও মামলার মাধ্যমে একটানা ২২ বছর বেড়া পৌরসভায় মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আ. বাতেন এর ২২ বছরের মেয়রকালের মধ্যে বেশিরভাগ সময় কেটেছিল মামলাজনিত কারণে বেড়া পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত থাকায়। সম্প্রতি আ. বাতেনকে নানা কারণ দেখিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এরপর বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়। আ. বাতেন বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যালিটি অ্যাসোসিয়েশনেরও সভাপতি ছিলেন।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র পদে মনোনয়ন দেয় তার ভাতিজা তরুণ নেতা রঞ্জনকে। কিন্ত বাতেন এরপরও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে থাকেন জোরে সোরে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুর রহমান মাসুদসহ বাতেনের এক ভাতিজি সাদিয়া আলমও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, নানা কারণে এবারের বেড়া পৌরসভার নির্বাচন ছিল তাৎপর্যপূর্ণ এবং প্রশাসনসহ সবার নজর ছিল বেড়ার নির্বাচনের দিকে। কাজেই প্রশাসন এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণ করতে ব্যাপক প্রস্ততি নেয়।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বেড়া পৌরসভার ১০টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৮১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২১ হাজার ৭৮২ জন, মহিলা ভোটার ২১ হাজার ৩৬ জন। মোট ১৮টি ভোট কেন্দ্রের ১৪২টি বুথে ইভিএম-এ ভোটগ্রহণ করা হয়।

জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মাহববুর রহমান জানান, সুন্দর একটি নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১৪২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, ও ২৮৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিযুক্ত করা হয়।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুর আলী জানান, বেড়া পৌরবাসীকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন উপহার দিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সচেষ্ট থাকেন। এ জন্য ১০ ওয়ার্ডে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট, ৪ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাব, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ভিজিল্যান্স টিম কাজ করে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত