ঢাকা, সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮ আপডেট : ৬ মিনিট আগে

কারাগারে বসেই নৌকাকে হারালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

  খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২১, ২১:২০  
আপডেট :
 ২৮ নভেম্বর ২০২১, ২১:৩৫

কারাগারে বসেই নৌকাকে হারালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী
ছবি- সংগৃহীত
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদহ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে কারাগারে থেকেও বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম দীন ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জোড়া হত্যা মামলায় খুলনা জেলা কারাগারে আছেন।

রোববার রাতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবিদা সুলতানা তাকে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

আনারস প্রতীকে তিনি ৫ হাজার ৮৮২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৩০ ভোট।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে খুলনার তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ ইউনিয়নের পহরডাঙ্গা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নাঈম শেখ নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় গুরুতর আহত হন নাঈমের বাবা হিরু শেখ (৫৫)। পরে তিনিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আরও পড়ুন: হিজড়া প্রার্থী ঋতুর কাছে নৌকার ভরাডুবি

এ ঘটনায় পরদিন ৮ আগস্ট নিহতের মা মাফুজা বেগম বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে তেরখাদা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই বছর ২০ আগস্ট নাঈম হত্যায় মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থ জোগানের অভিযোগে ছাগলাদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম দ্বীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

তাকে গ্রেপ্তারের পর ওই ইউনিয়নের মানুষ পক্ষে-বিপক্ষে আন্দোলন শুরু করে। এক পর্যায়ে ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবু জাফর রিপন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আরও পড়ুন: নড়াইলে ১০ ইউপিতেই স্বতন্ত্রের জয়, নৌকা দুই

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম দ্বীন ইসলাম জোড়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে আছেন। ফলে জেলা প্রশাসক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান এসএম দ্বীন ইসলাম জেলহাজতে থাকায় জনস্বার্থে তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন নয় বলে সরকার মনে করে। তার অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউপিসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩(১) অনুযায়ী তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত