ঢাকা, সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮ আপডেট : ১ মিনিট আগে

জাতীয় বস্ত্র দিবস আজ, সম্মাননা পাচ্ছেন ৭ সংগঠন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৫৮

জাতীয় বস্ত্র দিবস আজ, সম্মাননা পাচ্ছেন ৭ সংগঠন
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় বস্ত্র দিবস আজ শনিবার। ‘বস্ত্রখাতের বিশ্বায়ন, বাংলাদেশের উন্নয়ন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টানা তৃতীয় বারের মতো দেশে পালিত হচ্ছে এই দিবস।

এ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বানীতে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, বস্ত্র মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। বস্ত্রশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এ খাতকে সুসংহত ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেন। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ বস্ত্রশিল্প থেকে অর্জিত হচ্ছে। গ্রামীণ দারিদ্র্যবিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বস্ত্রখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আবদুল হামিদ বলেন, বস্ত্রখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পোশাকখাতের অগ্রগতিকে টেকসই করতে ‘বস্ত্র নীতি ২০১৭’ ‘বস্ত্র আইন ২০১৮’ এবং ‘বস্ত্রশিল্প (নিবন্ধন ও ওয়ানস্টপ সার্ভিস কেন্দ্র) বিধিমালা ২০২১’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বস্ত্রশিল্পের ক্রমাগত উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে ‘পোষক কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে বস্ত্র অধিদপ্তর বস্ত্রশিল্প ও বায়িং হাউজের উদ্যোক্তাদের নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি বস্ত্রখাতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বর্তমানে আটটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ১০টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ৪১টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট পরিচালিত হচ্ছে।

‘বস্ত্রখাতে দক্ষ জনবলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এ ধরনের আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। পরিবেশবান্ধব বস্ত্রশিল্প স্থাপন, বস্ত্রখাতের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে আমি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের ইতিহাস সুপ্রাচীন এবং গৌরবময়। ঢাকাই মসলিন ও জামদানি, টাঙ্গাইলের তাঁত, কুমিল্লার খাদি, রাজশাহীর সিল্ক এবং মিরপুরের বেনারসি শিল্প আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এসব ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে–এ প্রত্যাশা করি। আমি ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস-২০২১’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বানীতে বলেছেন, বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের ইতিহাস সুপ্রাচীন এবং গৌরবময়। বস্ত্রখাত দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছে। স্বাধীনতার পর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁত শিল্পের উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৭২ সাল থেকেই তাঁত শিল্পের মান উন্নয়নের পাশাপাশি বস্ত্রখাতকে সমৃদ্ধ করার নানামুখী প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন।

‘তৈরি পোশাকখাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ ভাগ অর্জিত হয় বস্ত্রখাত থেকে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্যবিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বস্ত্রখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী ৪ ডিসেম্বর ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস’ পালিত হতে যাচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এবারের প্রতিপাদ্য ‘বস্ত্রখাতের বিশ্বায়ন-বাংলাদেশের উন্নয়ন’ প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বস্ত্রশিল্প খাতকে নিরাপদ, শক্তিশালী এবং প্রতিযোগিতা সক্ষম করে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বস্ত্র কারিগরি শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ বস্ত্রশিল্পকে সহায়তার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বস্ত্র চাহিদা পূরণ, রপ্তানি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ নিরাপদ, টেকসই, শক্তিশালী এবং প্রতিযোগিতা সক্ষম বস্ত্রখাত গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার ‘বস্ত্র নীতি, ২০১৭’, ‘বস্ত্র আইন, ২০১৮’ এবং ‘বস্ত্রশিল্প (নিবন্ধন ও ওয়ানস্টপ সার্ভিস কেন্দ্র) বিধিমালা, ২০২১’ প্রণয়ন করেছে।

সরকারপ্রধান বলেন, বস্ত্রশিল্পকে সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বস্ত্র অধিদপ্তরকে পোষক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতি মোকাবিলায় আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর বস্ত্রশিল্প গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বস্ত্র অধিদপ্তর এ খাতে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করে চলেছে। আমাদের সরকার পোশাকশিল্পের রপ্তানি বৃদ্ধিতে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রায় বস্ত্রখাত সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন পারষ্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে এ খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শনিবার বস্ত্র দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও বিশ্বব্যাপী চলমান করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) বিপর্যয়ের অভিঘাতে বস্ত্রখাত রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় ৭টি সংগঠনকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত