ঢাকা, সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮ আপডেট : ৭ মিনিট আগে

এবারো নিরাশ হয়ে ফিরলো দুপারের স্বজনরা

  তানভীর হাসান তানু, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৪০  
আপডেট :
 ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৪৮

এবারো নিরাশ হয়ে ফিরলো দুপারের স্বজনরা
ছবি: প্রতিনিধি
তানভীর হাসান তানু, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় কুলিক নদীর পারে ঐতিহ্যবাহী পাথরকালি মেলা উপলক্ষে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে যুগ যুগ ধরে দুই বাংলার হাজারো মানুষ স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হয়ে কুশল বিনিময় করে আসছে। মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ভিড় জমায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। কিন্তু নিরাশ হয়েই ফিরে যায় দুদেশের হাজারো স্বজন।

শুক্রবার নিয়ম অনুযায়ী হরিপুরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৬ নং ভাতুড়িয়া ইউনিয়নের মাকড়হাট ক্যাম্পের ৩৪৬ পিলার সংলগ্ন টেংরিয়া গোবিন্দপুর গ্রামের হওয়ার কথা ছিল এই মিলনমেলা৷ সেই মোতাবেক বাঙালী আত্মীয় স্বজনরা প্রিয় স্বজনদের জন্য জিনিসপত্র নিয়ে কাটা তারের পাশাপাশি অবস্থান করলেও ভিড়তে পারেনি কাটা তারের পাশে।

জানা যায়, ইংরেজি মাস ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শুক্রবার দিনে লাখো মানুষের সমাগমে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ-ভারত মিলনমেলা হয়ে থাকে। এর আগেও করোনার সংক্রমণের কারণে মিলনমেলার আয়োজন করা হয়নি। এবারো সেই উছিলায় আয়োজন করেনি কতৃপক্ষ। এতে কাঁটাতারের ওপারে থাকা আত্মীয়-স্বজনরা মিলিত হতে পারনি। বৈশ্বিক মহামারী করোনার (ওমিক্রন) কারণে এবার সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে কোন মানুষজনকে ভিড় জমাতে দেয়নি ভারতীয় ও বাংলাদেশী সীমান্ত রক্ষীবাহিনী।

কয়েক যুগ ধরেই এখানে পাথরকালি মেলার আয়োজন করছে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা। কালীপুজার পরে ওই এলাকায় বসে এই পাথরকালি মেলা। মেলাকে ঘিরে একদিনের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। দুই বাংলার মানুষ আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে। নিয়ে আসা জিনিসপত্র গুলো কাঁটাতারের ওপর দিয়ে ছুড়ে দেন নিজের স্বজনদের উদ্দেশ্যে।

স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আশা জব্বার জানান, বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে বসবাস করছেন নিজস্ব আত্নীয়-স্বজন৷ দেখা করার, গল্প করার ও একজন আরেকজনের বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছে হলেও কোন উপায় নেই৷ কারণ মাঝখানে আছে কাঁটাতারের বেড়া৷ যে বেড়া বিভক্ত করেছে একদিকে বাংলাদেশ আরেকদিকে ভারত। প্রতিবছরে একটি পূজাকে কেন্দ্র করে কাঁটাতারকে ধরে দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়ে থাকে৷ কিন্তু এবার সেটাও হলোনা।

নিজের ভাইকে দেখতে আসা আলী আকবর বলেন, আপনজনদের দেখার জন্য এক বছর অপেক্ষা করে থাকি। নিজের ভাই থাকে পরিবারসহ ওপারে। গতবছরেও দেখা করতে পারিনি৷ এবারে আশা ছিল ভাইয়ের মুখ দেখতে পারব কিন্তু ভারতের প্রসাশন তা হতে দিলনা। ওইদিকে বলে খুব ভাইরাস তাই আর দেখা হলনা।

মেয়ের জন্য পিঠা নিয়ে আসা বৃদ্ধা সালেহা বেগম বলেন, এখন এই পিঠা কে খাবে? মেয়ে, জামাই, নাতি নাতনীর জন্য নিজের হাতে পিঠা বানাই নিয়ে আসছি। কিন্তু পিঠা দেয়া দূরের কথা, এক পলক দেখা করতেও পারলাম না৷

নীলফামারীর জলঢাকা থেকে ভারতে বসবাস করা ছেলেকে দেখতে এসেছিলেন বৃদ্ধা মধুবালা। তিনি কেঁদে কেঁদে জানালেন, টাকার অভাবে ভারতে যেতে পারিনা, তাই খবর পেয়ে এলাম ছেলেকে দেখতে; না দেখেই ফিরে যাচ্ছি। প্রতি বছর যেন আমাদের মতো অভাবী মানুষদের জন্য সীমান্তে মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।

পীরগঞ্জ থেকে আসা বাকলী রাণী, চন্দ চাঁদ রায়সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অনেকে বলেন, সকাল থেকে আমরা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষায় রয়েছি। দুপুর গড়িয়ে বেলা শেষের দিকে তারপরেও দেখা করতে পারছিনা। করোনা ভাইরাসের কারণে সব বন্ধ। আত্মীয়রা ওপারে অপেক্ষায় রয়েছে কাঁটাতারের কাছে আসতে পারছেনা। এবার পূজা সম্পন্ন করেই বাড়ি যাব। আগামী বছর দেখা করার অপেক্ষায় রইলাম ।

পূজা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নগেন কুমার পাল বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে মিলনমেলা করা সম্ভব হয়নি শুধু পূজা পালন করা হয়েছে।

হরিপুরের গোবিন্দপুর ও চাপাসার ক্যাম্পে কর্মরত সীমান্ত বাহিনীরা জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে এবার মিলনমেলা বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় কতৃপক্ষ এবং কাঁটাতারের কাছে কোন বাংলাদেশীরা যেন না যায় সে বিষয়ে আমাদের অনুরোধ করেছে৷

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত