ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

দেশ গড়ার প্রত্যয়ে অবিচল থাকলেই স্বাধীনতা অর্থবহ হবে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:১৩  
আপডেট :
 ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭:১৪

বিজয় দিবস উপলক্ষে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার উপলক্ষে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে বক্তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি স্মৃতিচারণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা উপহার দিয়ে গিয়েছেন। এই স্বাধীনতা তখনই অর্থবহ হয়ে উঠবে, যখন আমরা দেশের সবাই মিলে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবো। নিজ অবস্থানে থেকে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে অবিচল থাকবো।

বুধবার ধানমন্ডির লেকচার গ্যালারিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সিম্পোজিয়ামে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. এখলাসুর রহমান বলেন, একবার এক সাংবাদিক (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পছন্দ করতেন না) তাজউদ্দীন আহমদকে বললেন, বঙ্গবন্ধু থার্ড ক্লাস রাজনীতিবিদ। আপনারা এই থার্ড ক্লাস রাজনীতিবিদের পেছনে ঘোরেন কেন? তাজউদ্দীন আহমদ চিন্তা করে বললেন, শোনেন রাওয়ালপিন্ডি গোলটেবিল বৈঠকে ইয়াহিয়া খান যখন টেবিল চাপড়িয়ে কথা বলেন, তখন কেউ কোনো কথা বলতে সাহস পান না। সেখানে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ আছেন, কিন্তু কেউ কোনো কথা বলেন না। সেখানে বঙ্গবন্ধু ৩টা থাপ্পর দিয়ে কথা বলেন। উনি হচ্ছেন আমার নেতা। আর উনি হচ্ছেন অসীম সাহসের, তাই আমরা উনার পেছনে আছি।

‘উনার যে অসীম সাহসিকতা এবং যে আত্মবিশ্বাস সেটা আপনারা তার বক্তব্যে শুনলেও বুঝতে পারেন।’

বঙ্গবন্ধু আমাদের একটা মানচিত্র দিয়েছেন উল্লেখ করে এখলাসুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। আর আমি যেকারণে তাকে পছন্দ করি, তিনি আমাদের একটা জাতীয় সংগীত দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি স্মৃতিচারণ করে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. হাবিবুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এই দিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই সেই ব্যক্তিকে, যার আহ্বানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এদেশের মুক্তিকামী জনতা। সেই শ্রেষ্ঠতম বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি আমাদের জাতির পিতা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। তিনি আমাদের স্বাধীনতা উপহার দিয়ে গিয়েছেন। এই স্বাধীনতা তখনই অর্থবহ হয়ে উঠবে, যখন আমরা দেশের সবাই মিলে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবো। নিজ অবস্থানে থেকে দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে অবিচল থাকবো।

প্রফেসর ডা. এম আলমগীর চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু সারাজীবনে ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে ছিলেন। এরমধ্যে ব্রিটিশ আমলে ৭ দিন আর পাকিস্তান আমলে ৪ হাজার ৬৭৫ দিন কারাগারে ছিলেন। ছাত্র অবস্থায় তিনি ১৯৩৮ সালে প্রথম কারাগারে যান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিনি প্রথম আন্দোলন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির দাবি-দাওয়ার আদায়ের লক্ষ্যে) করেন। এরপর তিনি ছাত্রলীগ, মুসলীম আওয়ামী লীগ, যুক্তফ্রন্ট, ছয় দফা এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, অসহযোগ আন্দোলন এবং ৭ মার্চের ভাষণ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে আমরা বাংলাদেশ পাই।

অধ্যাপক ডা. সেহরীন ফরহাদ সিদ্দিকা বলেন, আমার বয়স যখন মাত্র ১০ বছর। তখন আমি কচি-কাঁচার মেলায় গিয়েছিলাম। ওই সময় আমি একটা সুযোগ পেয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু কচি-কাঁচার মেলায় সবাইকে ডেকেছিলেন এবং সবার সাথে কুশল বিনিময় করেছিলেন। আমি সবচেয়ে ছোট এবং দল নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। উনি আমাকে একটা রসগোল্লার খাইয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া আমরা এতিম হয়ে আছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতিম হয়েই আমরা বাংলাদেশকে পরিচালনা করছি এবং স্বাধীন বাংলাদেশ উপভোগ করছি। আমাদের নিম্ন আয়ের বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ে চলে গিয়েছে। আমরা স্বপ্ন দেখি, ২০৪১ সালের মধ্যে এটা উন্নত দেশে পরিণত হবে। আমরা সেই আশা ব্যক্ত করছি। আমরা তোমার (বঙ্গবন্ধু) আর্দশে চলবো।

সভাপতির বক্তব্যের আগে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার উপলক্ষে সভায় উপস্থিত অতিথিদেরকে কেক কাটেন এখলাসুর রহমান।

ডা. মো. এখলাসুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. বেনোজীর হক ও সহকারী অধ্যাপাক ডা. সামীমা নাসরিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. রাজিবুল আলম, অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম আরিফ, প্রফেসর ডা. মো. হানিফসহ কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত