ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ১০ মিনিট আগে

সাংবাদিক নির্মল সেনের মৃত্যুবার্ষিকী, গোপালগঞ্জে স্মরণ সভা

  গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:২৬  
আপডেট :
 ০৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:৩৪

সাংবাদিক নির্মল সেনের মৃত্যুবার্ষিকী, গোপালগঞ্জে স্মরণ সভা
ছবি- প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি রাজধানী ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। গোপালগঞ্জে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নির্মল সেনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নির্মল সেন স্কুল অ্যান্ড মহিলা কলেজে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে নির্মল সেন স্কুল অ্যান্ড মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। নির্মল সেন সংসদের আয়োজনে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওহায়িদ। এছাড়াও নির্মল সেনের ভাতিজা ও সাংবাদিক রতন সেন কংকনের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদারসহ গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্মল সেন ১৯৩০ সালের ৩ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার দিঘীরপাড় গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত। মাতার নাম লাবন্য প্রভা সেন গুপ্ত। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নির্মল সেন পঞ্চম। নির্মল সেনের পিতা সুরেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের গনিত শিক্ষক ছিলেন। এর আগে সুরেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত ঢাকার ইস্ট বেঙ্গল ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করতেন।

দেশ বিভক্তির পরে নির্মল সেনের পিতা-মাতা তার অন্য ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতা চলে যান। জন্মভূমির প্রতি অকুন্ঠ ভালবাসার কারণে তিনি দেশে থেকে যান। নির্মল সেন বড় হয়েছেন ঝালকাঠি জেলায় তার পিসির বাড়িতে। তিনি ঝালকাঠি জেলার কলসকাঠি বিএম একাডেমি থেকে ১৯৪৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ম্যাট্রিক পাস করেন। পিসির বাড়িতে যাওয়ার আগে নির্মল সেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জিটি স্কুলে ৪র্থ শ্রেণিতে এক বছর লেখাপড়া করেন। তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে আইএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ও মাস্টার্স পাস করেন।

স্কুল জীবন থেকেই নির্মল সেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের মাধ্যমে। কলেজ জীবনে তিনি অনুশীলন সমিতির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আরএসপিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন তিনি শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতি করতে গিয়ে নির্মল সেনকে জীবনের অনেকটা সময় জেলে কাটাতে হয়েছে।

১৯৫৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মধ্য দিয়ে নির্মল সেন তার সাংবাদিকতার জীবন শুরু করেন। তারপর দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।

তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিষয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। লেখক হিসেবেও নির্মল সেনের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তার লেখা ‘পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ’, ‘মানুষ সমাজ রাস্ট্র’, ‘বার্লিন থেকে মস্কো’, ‘মা জন্মভূমি’, ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’, ‘আমার জীবনে ৭১ এর যুদ্ধ’, ‘আমার জবানবন্ধি’ উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ জার্নাল/পিএল

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত