ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮ আপডেট : ১৩ মিনিট আগে

পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নয়ন হত্যাকাণ্ড, দাবি পরিবারের

  গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৪৪  
আপডেট :
 ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:১৫

পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নয়ন হত্যাকাণ্ড, দাবি পরিবারের
ছবি: প্রতিনিধি
গাজীপুর প্রতিনিধি

আধিপত্য বিস্তার, ছাত্রলীগের কমিটি ও মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে ছাত্রলীগ নেতা নয়ন শেখকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তার পরিবার।

শুক্রবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া গ্রামে নিহতের বাড়ি গেলে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে খাইরুল ইসলামসহ আরও ১০/১৫ জন জড়িত বলে বাংলাদেশ জার্নালকে জানিয়েছেন নয়নের মা মনোয়ারা বেগম ও বড় ভাই মানিক মিয়া। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন তারা।

নিহত নয়ন শেখ বেলদিয়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরের ছেলে। নয়ন কাওরাইদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন।

নিহত নয়নের বড় ভাই মানিক মিয়া জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার কাওরাইদ কেএন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা খাইরুলের ছেলে অনুভবের সঙ্গে নয়নের অনুসারীদের ঝগড়া হয়। পরে নয়ন অনুসারীরা ঝগড়ার বিষয়টি জানিয়ে নয়নের কাছে বিচার চায়। নয়ন উভয় পক্ষকে ডেকে অনুভবকে একটা থাপ্পড় দিয়ে মীমাংসা করে দেয়। ছেলে অনুভবকে থাপ্পড় দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয় যুবলীগ নেতা খাইরুল মীর। পরে খাইরুল রাতে নয়নকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসে ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকেই স্থানীয় খাইরুল মীর ও তার ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনে নয়নকে মারধর করা হয়।

পরে রাতে মারধরের খবর পেয়ে আওয়ামী লীগ অফিসে ছুটে যান নয়নের বড় ভাই মানিক ও তার মা মনোয়ারা বেগম। তারা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গিয়ে নয়নকে না পেয়ে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পেছনে পুকুরে নয়নের লাশের সন্ধান পান তারা। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পরে খাইরুল মীর ও তার অনুসারীরা গা ঢাকা দেয়। স্থানীয়দের কাছে তারা জানতে পারেন, মারধরের পর নয়ন দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে নয়ন পুকুরের পানিতে পড়ে গেলে তাকে সেখানে মারধর ও পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহতের মা মনোয়ারা বেগম জানান, চার মাস আগে নয়নের সঙ্গে খাইরুল অনুসারী মাদক ব্যবসায়ী বাচ্চুর মারামারির ঘটনা ঘটে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ নানা বিষয়ে নয়নের সঙ্গে বিরোধ ছিল খাইরুল ও তার অনুসারীদের। বিভিন্ন সময় নয়নকে খুন জখমের হুমকি দেয় তারা। ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছিল নয়ন। অন্যদিকে, খাইরুল মীরও ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে তার অনুসারী অন্য একজনকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল। নয়ন তাদের প্রার্থীর তুলনায় বেশ জনপ্রিয় ছিল। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার তারা নয়নকে হত্যার মধ্য দিয়ে তাদের পূর্ব শত্রুতা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে বলে তিনি জানান।

এদিকে, গত শুক্রবার খাইরুলের বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘরগুলোও ছিল তালাবদ্ধ।

নয়ন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম রবিন।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই তারা শেখ বাদী হয়ে ৩০/৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/পিএল

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত