ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ৬ মিনিট আগে

ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির নামে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়েছে মুকুল

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:৪২

ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির নামে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়েছে মুকুল
ছবি- প্রতিনিধি
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভুয়া ল্যান্ড ম্যাজিস্ট্রেট ও অস্ট্রেলিয়ার বন্দরে চাকরি দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎকারী মির্জা মুকুল (৪৫) নামের এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে মির্জা মুকুলকে গ্রেপ্তার করে বুধবার মালিবাগ কার্যালয়ে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সিআইডি।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, অস্ট্রেলিয়া পৌঁছাতে প্রতিজনের মোট ৮ লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানায় মুকুল। এভাবে সে ৩৬ জনকে প্রলুব্ধ করে তাদের কাছ থেকে মোট ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় মুকুল।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের সময় মুকুলের কাছ থেকে ২৬টি পাসপোর্ট, ৩টি অটোসিল, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি ট্রেনিং পাসের ৩৫টি কার্ড, প্রশিক্ষণের য়া যোগদানপত্রের কপি ৭টি, বাংলাদেশ সরকার ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর লেখা ও ছবি সংবলিত পাসপোর্টের আবেদন ফরম ২৫টি ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। চক্রে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ইমাম হোসেন বলেন বলেন, মির্জা মুকুল দীর্ঘদিন ধরে বেকারদের অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছে। গ্রেপ্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে জানা যায়, মুকুল ও পলাতক অন্য আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। তারা অস্ট্রেলিয়ার বন্দরে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে গ্রামের সরল লোকজনদের প্রতারিত করতো।

সম্প্রতি আবদুল কাদের নামের এক ভুক্তভোগীর মামলার বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে মুকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি আরও জানায়, আবদুল কাদের ও মির্জা মুকুল একই এলাকার হওয়ায় তাদের প্রায়ই দেখা হতো। এসময় মুকুল নিজেকে ল্যান্ড ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিতো। বাদীকে জানায়, তার সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানাশোনা আছে। তার কাছে সরকারিভাবে অস্ট্রেলিয়ায় লোক পাঠানোর নির্ভরযোগ্য মাধ্যম আছে এবং এই বিষয়ে বাদীর পরিচিত বন্ধু ও স্বজনদেরও সরকারি খরচে দেশটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করে।

গ্রেপ্তার মকুল আগে ওমান থাকতো। ৯ বছর ওমানের সালাহ সি পোর্টে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছে। সেখান থেকেই এ প্রতারণার পরিকল্পনা করে এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরিতেও মকুল দক্ষ বলে জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এফজেড/এএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত