ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

অভিনেত্রী শিমু হত্যা, নোবেল ও তার বন্ধুর স্বীকারোক্তি

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:৩৬

অভিনেত্রী শিমু হত্যা, নোবেল ও তার বন্ধুর স্বীকারোক্তি
ছবি- সংগৃহীত
জার্নাল ডেস্ক

চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুকে তার স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল শ্বাসরোধ করে হত্যা করার সময় নোবেলের বন্ধু আব্দুল্লাহ ফরহাদ সাহায্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকার দুই বিচারিক হাকিমের আলাদা খাস কামরায় নোবেল ও ফরহাদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

শুক্রবার সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল এ নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আসামিদের রিমান্ড চলাকালেই গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল বিচারিক সাইফুল ইসলামের আদালতে এবং আসামি আব্দুল্লাহ ফরহাদ সিনিয়র বিচারিক হাকিম মিশকাত শুকরানার আদালতে জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগমের আদালত এ আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশে ঝোপের ভেতর থেকে রাইমা ইসলাম শিমুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ৪১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী সপরিবারে ঢাকার কলাবাগান থানাধীন গ্রিন রোড এলাকায় বসবাস করতেন। লাশটি শনাক্ত করার পরপরই এই হত্যা রহস্য উদঘাটন করার জন্য পুলিশ সুপার ঢাকার নির্দেশনায় কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ব্যাপক তৎপড়তা শুরু করে।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার সংবাদ সম্মেলনে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সুপার ঢাকার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেরানীগঞ্জ সার্কেলের নেতৃত্বে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি ও মামলার তদন্তকারী অফিসার ভিকটিম চিত্রনায়িকা শিমুর বাসায় যান এবং তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা শুরু করেন।

পরিকল্পিতভাবে এই চিত্রনায়িকাকে হত্যার পর খুনিরা লাশটি কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন হযরতপুরে ফেলে যায় বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলেও তারা (খুনি) কিছু চিহ্ন রেখে যায়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলমতগুলো জব্দ করি এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভিকটিম চিত্রনায়িকা শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল (৪৮) ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে (৪৭) আটক করি।

রাতেই আটক দুজনকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ ছিল শিমুর। দাম্পত্য কলহের জেরে গত ১৬ জানুয়ারি সকাল ৭-৮টার মধ্যে যেকোনও সময় খুন হন। পরে লাশটি যে গাড়িতে করে নিয়ে গিয়ে সেখানে ফেলে রেখে আসা হয়, আমরা ইতোমধ্যে সেই গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়েছি এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত