ঢাকা, রোববার, ২২ মে ২০২২, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ আপডেট : ৫ মিনিট আগে
ব্রেকিং নিউজ
  •   দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হাজী সেলিমের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত

‘অ্যালুইটি’ আলুতে মতির সাফল্য

  সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ২২:২১

‘অ্যালুইটি’ আলুতে মতির সাফল্য
ছবি: প্রতিনিধি
সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় ‘অ্যালুইটি’ জাতের আলুর চাষ এবং বীজ উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন কৃষক মতিউর রহমান মতি। এই প্রথম জেলার বিরল উপজেলার পুরিয়া গ্রামের কৃষক মতি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ১০ একর জমিতে আয়ারল্যান্ড থেকে আমদানি করা নতুন ‘অ্যালুইটি’ জাতের আলুর বীজ উৎপাদনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নভেম্বর মাসের ২৮/২৯ এই দুইদিনে এই জাতের আলু জমিতে বপন করেন মতি। এখন গাছের বয়স প্রায় ৫০ দিন। আলু আসতে শুরু করেছে। আলুর বয়স ৬০ দিন হলেও ওজন বাড়তে থাকে। ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে আলু মাড়াই করা যাবে।

একটি আলু গাছে ১৮ থেকে ২২টি করে আলু ধরেছে। প্রতিটি আলু ৫০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আলুর গায়ের রং লাল, যা উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হতে উঠবে বলে আশাবাদী সবাই।

কৃষক মতিউর হমান মতি জানান, অন্যান্য আলু চাষের মতোই জমি চাষাবাদ করতে হয়েছে। এক একর জমিতে এই আলু চাষ করতে খরচ ধরা হয়েছে এক লাখ টাকা। বিএডিসি কর্তৃপক্ষ এই জাতের আলু বীজ ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আশা করছেন, এতে তার প্রতি একর জমি থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকা আয় হতে পারে।

মতি বলেন, বিএডিসি কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনায় এই জাতের আলু চাষ করছেন তিনি। গাছের তরতাজা চেহারা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় তেমন কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। আলুর রোগ বালাই কম হওয়ায় অপেক্ষাকৃত কম কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে। এই আলুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম হবে এবং লাভ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মতিউরের ভাতিজা মাসুদ রানা জানান, নতুন এই জাতের আলু অনেক সম্ভাবনাময়। কারণ অন্যান্য জাতের আলুর তুলনায় এই আলুতে ফলন অনেক বেশি হবে, যার কারণে কৃষকেরা বেশি লাভবান হবেন। এক হেক্টর জমিতে ৪৩ টন আলু উৎপাদন হবে যা অন্য জাতের আলুর উৎপাদনের প্রায় অর্থেকের চেয়ে বেশি। তারা আগামী বছর আরও বেশি জমিতে এই জাতের আলুর চাষ করেন বলে জানালেন।

দিনাজপুর বিএডিসি উপ-পরিচালক আবু জাফর মোহাম্মদ হেমায়েতল্লাহ বলেন, ‘অ্যালুইটি’ জাতের এই আলুর চাষ অত্যন্ত লাভজনক হবে। এই জাতের আলু চাষের প্রতি কৃষকরা ঝুঁকে পড়বে। আমাদের দেশে আলু চাষে এখন দিন দিন অনেক কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠছেন। যেহেতু এক হেক্টর জমিতে ৪৩ টন আলু উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দেশের উদ্বৃত্ত আলু যদি রপ্তানি করা যায় তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও সমৃদ্ধ হবে মনে করি।

দিনাজপুর বিএডিসির যুগ্ম-পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চলে ‘অ্যালুইটি’ জাতের আলু চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আয়ারল্যান্ড থেকে সরকার এই জাতের আলুটি আমদানি করেছে। কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সরবরাহ করছে এবং উৎপাদিত এই জাতের আলু আবার বীজ হিসাবে আগামীতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। কৃষকেরা এই জাতের আলু চাষ করে দ্বিগুণ লাভবান হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত