ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ১৬ মিনিট আগে

২১ দিনে পণ্য যাবে স্পেনে, বাঁচবে খরচ

  চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২২, ২০:৪০

২১ দিনে পণ্য যাবে স্পেনে, বাঁচবে খরচ
চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

ইতালির পর এবার স্পেনের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী মে মাসে স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর থেকে আসা জাহাজ দিয়ে এই রুটের যাত্রা শুরু হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং দেশের রপ্তানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দেশের রপ্তানি খাতের জন্য বড় ধরনের সুখবর। তাই যত দ্রুত ইউরোপের অন্য দেশগুলোর পাশাপাশি আমেরিকায় সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু করা যায় ততই দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গল।

নতুন এই রুটে চলাচলের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তিনটি জাহাজকে অনুমতি দিয়েছে। অনুমতি দেয়া জাহাজ তিনটি হলো- জার্মানির পাতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ এমভি স্পাইকা। ১৫১ মিটার লম্বা এবং ৬ দশমিক ৭ মিটার গভীরতার জাহাজটি সাড়ে ৭শ' একক কনটেইনার ধারণ করতে পারে। সাইপ্রাসের পতাকাবাহী আরেকটি জাহাজ হলো এন্ড্রোমিডা জে। ১৪০ মিটার লম্বা এবং ৬ দশমিক ৮ মিটার গভীরতার এই জাহাজটি সাড়ে ৮শ' একক কনটেইনার বহন করতে পারে। এছাড়া আরেকটি জাহাজ হলো পর্তুগালের পতাকাবাহী জাহাজ মিউজিক। এই জাহাজটি ১৪০ মিটার লম্বা এবং ৬ মিটার গভীরতার, এটি ৪০৩ একক কনটেইনার ধারণ করতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, শিগগিরই চালু হবে পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো একে অপরের ভূখণ্ড ব্যবহার করে। সেখানে সড়কপথে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। তাই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপের যে কোনো দেশে কার্গো গেলে তারা সড়কপথে গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-ইতালি রুটে প্রথমবার সরাসরি কন্টেইনার জাহাজ পরিচালনা শুরু করে ‘সুঙ্গা চিতা’ জাহাজ। ২০২২ সালের মার্চ মাসে প্রথম এই রুটে পণ্য পরিবহন শুরু হয়। এর ফলে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর- সিঙ্গাপুর, কলম্বো, তানজুম পেলিপাস, পোর্ট কেলাং এবং চীনের বন্দর বাদ দিয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়। এতে প্রচুর সময় সাশ্রয় হয়, হয় অর্থ সাশ্রয়। কমে যায় ভোগান্তি। এখন কোন বন্দরে বিরতি ছাড়াই ১৬ থেকে ২০ দিনেই পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে রিলায়েন্স শিপিং এন্ড লজিস্টিকস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইউরোপের স্পেনের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি জাহাজ চালুর অনুমতি দিয়েছে। এ রুটে সরাসরি জাহাজ চালু হলে গার্মেন্টস কারখানাগুলোসহ স্পেনে পণ্য পাঠানো বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য বিশাল একটি সুখবর। এই রুটে মাত্র ২১ দিনে পণ্য পাঠানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোতে যে জট চলছে তা এড়িয়ে এবার স্পেনে খুব দ্রুত পণ্য পাঠানো সম্ভব হবে। এতে খরচ ও সময় দুটোই বাঁচবে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮২ শতাংশ পোশাক পণ্য। দেশের সামগ্রিক রপ্তানি বাণিজ্যের ৫১ শতাংশই হয় ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে। এছাড়া ২৫ শতাংশ আমেরিকা, এশিয়া ২০ শতাংশ, কানাডায় ৪ শতাংশ। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। কন্টেইনার শিপমেন্টের ৯৮ শতাংশও হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে।

বিজিএমই'র সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ইউরোপের দেশগুলোর সাথে নতুন জাহাজ চলাচল দেশের রপ্তানি খাতে বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। এটি বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন। এই সেবা যাতে ব্যাহত না হয় তা কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, গত রোববার বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইউরোপ রুটে চলাচলের জন্য একটি জাহাজের অনুমোদন দিয়েছেন। জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম পোর্ট, স্পেনের বার্সালোনা পোর্টে চলাচল করবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত