ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ২ মিনিট আগে

সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে সন্তানদের দ্বন্দ্ব: দুইদিন পর পুলিশের হস্তক্ষেপে লাশ দাফন

  সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২২, ২১:০৭

সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে সন্তানদের দ্বন্দ্ব: দুইদিন পর পুলিশের হস্তক্ষেপে লাশ দাফন
ছবি: প্রতিনিধি
সাভার প্রতিনিধি

সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে সৎ বোনদের বাধার পর এলাকাবাসীর অভিযোগে দাফন হয়নি বাবার লাশ। অবশেষে দুইদিন পর সাভার মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় বাবার লাশ দাফন করেছে সন্তানেরা। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার সাভার পৌরসভার ছায়াবীথি এলাকার বিক্রমপুর গলিতে।

জানা গেছে, ওই এলাকার প্রায় ৯টি বাড়ির মালিক আবুল খায়ের গত একমাস ধরে কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ৮ মে বিকেল প্রায় ৪টার দিকে হাসপাতালের আইসিওতে মৃত্যু হয় তার। এরপর হাসপাতাল থেকে লাশ আনা হয় সাভারের নিজ বাড়িতে।

জানা গেছে, আবুল খায়েরের দ্বিতীয় স্ত্রী ফাতেমার ৪ মেয়ে সন্তান শাহনাজ (৪০), কিরণ (৩৮), লাকী (৩৫) ও রিজনী (৩২) বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকার শ্যামলী থেকে সাভারে যান লাশ দেখতে। এ সময় মৃত আবুল খায়েরের প্রথম স্ত্রী নুরুন্নাহার (৬০) এবং তার সন্তান আব্দুস সালাম (৪২), নিলুফা (৪০), আবু কালাম (৩৬), স্বপন (৩০) ও ইমন (২৮) বাবার লাশ দেখতে বাধা দেন দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের। লাকী ও অন্যান্য বোনেরা ৯ মে সকালে স্থানীয় একটি স্কুলের মাঠে জানাজা নামাজে গিয়ে সম্পত্তির ভাগ না দিলে লাশ করতে দেবেন না বলেন। লাকী পুলিশের পরিসেবা ৯৯৯-এ কল করে বাবার লাশ দেখতে আকুতি জানান। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এলে লাকী ও তার বোনেরা জানান যে, বাবার সম্পত্তির ভাগ না দিলে তারা লাশ দাফন করতে দেবেন না। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে বসে সমাধানের আশ্বাস দেন স্থানীয়রা।

এরপর দুপুরের দিকে আবুল খায়েরের লাশ নিজ বাড়ির পাশে মসজিদের আঙিনায় দাফনের প্রস্তুতি নেয় পরিবার। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগ তুলে লাশ দাফনে বাধা দেন এলাকার লোকজন। এ সময় মৃতের জন্য খোঁড়া কবরটিও এলাকার লোকজন মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন।

আবুল খায়েরের ছেলেরা এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ঘটনাস্থলে গিয়ে আবুল খায়েরের লাশ দাফন করতে সহায়তা করেন। বিক্রমপুর গলিতে আবুল খায়েরের দেয়া জায়গায় নির্মিত মসজিদের পাশে রাস্তার সাথে একটি পরিত্যক্ত মুদি দোকানে আজ সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে দাফন করা হয় আবুল খায়েরের লাশ।

লাকী আক্তার জানান, বাবার মৃত্যুর সংবাদ শুনে সাভারে আসি। সৎ ভাই-বোনেরা আমার বাবার লাশ দেখতে দেয়নি। সাভারে আমার বাবার ৯টি বাড়ি রয়েছে। তিনি একটি মসজিদও নির্মাণ করেছেন। আমাদের সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে বাবার লাশ দাফন করতে বাধা দেই। পরে স্থানীয়রা সুবিচারের আশ্বাস দিলে আমি তা মেনে নিই।

মৃতের ছেলে আব্দুস সালাম জানান, আমার বাবা মৃত্যুর আগে সকল সম্পত্তি আমার মায়ের নামে লিখে দিয়ে গেছেন। তবুও আমি ও আমরা ওই বোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করবো না। এ কথা বলার পরও তারা বাবার লাশ দাফনে বাধা দিয়েছে। যে কারণে দুইদিনেও লাশ দাফনের ব্যবস্থা করতে পারিনি আমরা।

আব্দুস সালামের ছোট ভাই ইমন জানান, সৎ বোনদের সম্পত্তির ভাগাভাগির ব্যাপারটি সমাধান না করা পর্যন্ত তারা লাশ দাফন করতে দেয়নি। তাই বাবার লাশ নিয়ে আমার আরেক ভাই স্বপন হিমায়িত অ্যাম্বুলেন্সে করে মিরপুরে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

সাভার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রমজান আহমেদ জানান, মসজিদের পাশে মৃত ব্যক্তিকে কবর দেয়ার ব্যাপারে এলাকাবাসী বাধা প্রয়োগ করেছেন। এখানে মৃতকে দাফন করে মাজার তৈরি করে অনৈতিক কাজ হওয়ার আশঙ্কা করে এলাকাবাসী। তাই আবুল খায়েরকে অন্যত্র কবর দিতে পরিবারকে অনুরোধ করেছে এলাকাবাসী।

সাভার মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর রুবেল আহমেদ বলেন, জনৈক লাকী আক্তার ৯৯৯-এ কল করেন। আমি ঘটনাস্থলে এসে দেখি বাবার লাশ দাফনে বাধা দিচ্ছেন একপক্ষের সন্তানেরা। পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয়রা বিষয়টির মীমাংসা করে দেন।

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মাকারিয়াস দাস বলেন, বিভিন্নভাবে বাবার লাশ দাফনে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে মৃত আবুল খায়েরের সন্তানেরা থানার সহযোগিতা চান। এর প্রেক্ষিতে পুলিশের উপস্থিতিতে বিক্রমপুর গলিতে মৃতের লাশ দাফন করা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত