ঢাকা, সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ৪৪ মিনিট আগে

ভুয়া করোনার নেগেটিভ সার্টিফিকেট বিক্রি করতো তারা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২২, ২০:৩৩  
আপডেট :
 ১৫ মে ২০২২, ২০:৪১

ভুয়া করোনার নেগেটিভ সার্টিফিকেট বিক্রি করতো তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিদেশগামী সাধারণ যাত্রীরা করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট প্রদর্শন ছাড়া বিদেশ যাত্রা করতে পারে না। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি প্রতারক চক্র বেশ কিছুদিন ধরে বিদেশগামী যাত্রীদের জিম্মি করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিলো। তাদের জিম্মি করে করোনা সার্টিফিকেট সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে সমাধান করার কথা বলে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে প্রতারণা মূলকভাবে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। এই প্রতারক চক্রটি গত কয়েক মাস ধরে সাধারণ বিদেশগামী যাত্রীদের হয়রানি করে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়।

শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী থেকে করোনা সার্টিফিকেট নিয়ে প্রতারণাকারী চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১। গ্রেপ্তার চক্রের সদস্যরা হলেন- জসিম উদ্দিন (২৮), মো. তারেকুল ইসলাম (২৬), মো. আলমগীর হোসেন (২০), মো. রিপন মিয়া (২৮), মো. আরিফুল ইসলাম (২০), আহম্মেদ হোসেন শাহাদাৎ (১৮) ও মো. শামীম হোসেন (৩০)।

এসময় তাদের কাছ থেকে ৬ পাতা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া ভুয়া কোভিড-১৯ টেস্টের পজেটিভ এবং নেগেটিভ সার্টিফিকেটের ফটোকপি, ২টি বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদান প্রদানে ব্যবহৃত সিম কার্ড, ৩টি প্রবাসীদের মোবাইল নম্বর সম্বলিত টোকেন, ১টি পেনড্রাইভ, প্রতারনামূলকভাবে অর্জিত বিভিন্ন মূল্যমানের নগদ ৪১ হাজার ৮৬৯ টাকা, ১ টি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম কার্ড, ৮ টি মোবাইল ফোন, ২টি হাতঘড়ি ও ২টি চশমা উদ্ধার করা হয়।

রোববার রাজধানীর উত্তরায় সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। এই চক্রের সদস্যরা বিদেশগামী যাত্রীদের কাছ থেকে নিজেদের কোভিড-১৯ হাসপাতালের ডাক্তার, স্টাফ ও নার্স পরিচয় দিয়ে তাদের বিশ্বস্ততা অর্জন করত। পরবর্তীতে যাত্রীদের কোভিড-১৯-এর ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, এই চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে একে অপরের সহযোগীতায় রাজধানীর বনানীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ এর সার্টিফিকেট সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে সমাধান করার কথা বলে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে লোকজনের কাছ থেকে প্রতারনামূলকভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এফজেড/কেএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত