ঢাকা, সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

শ্রমিকের তীব্র সঙ্কট, বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে ধান

  সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২২, ১৭:৫০  
আপডেট :
 ১৮ মে ২০২২, ১৭:৫৫

শ্রমিকের তীব্র সঙ্কট, বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে ধান
ছবি: প্রতিনিধি
সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরে ইরি-বোরো মৌসুমে ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সঙ্কট পড়েছে। বিঘাপ্রতি চুক্তিতে প্রতিদিন ১ হাজার টাকা বেশি মজুরি দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না শ্রমিক।

কৃষকরা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে বোরো ধানে পোকার আক্রমণ কম থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর বাতাসের কারণে পাকা ধান পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

চিরিরবন্দরের আউলিয়াপুর গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, এবার ৪ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। শ্রমিক সঙ্কটে কারণে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। খুব কষ্ট করে শ্রমিক সংগ্রহ করলেও বিঘাপ্রতি ৮ হাজার টাকার কমে ধান কাটতে রাজি হয় না। তাই বাধ্য হয়ে ধান কাটতে লাগিয়ে দিয়েছি। না হলে পাকা ধান ঝরে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, সবকিছুর দাম বেশি, কিন্তু ধানের দাম কম। ধানের ফলনও ভালো হয়নি। এবার মিনিকেট ধান এক বিঘাতে ৩০-৩২ মণ ফলন হয়েছে। বর্তমান বাজারে মিনিকেট ধান ৯০০ টাকা মণ। এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে বোরো আবাদ করেছি। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ২৪-২৫ হাজার টাকা। লাভ তো দূরের কথা, বোরোতে বিঘাপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।

একই ইউনিয়নের আউলিয়াপুকুর গ্রামের কৃষক মাজেদুর রহমান বলেন, হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার জন্য আমরা মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু হারভেস্টার মালিক আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। বার বার অনুরোধ করার পরও হারভেস্টার মালিক ধান কাটতে আসেনি। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিক দিয়ে বেশি দামে ধান কাটতে হলো।

ভিয়াইল ইউনিয়নের কৃষক দুলাল রায় বলেন, অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও সঠিক সময় ধান কাটা শ্রমিক মিলছে না। ঝড়-বৃষ্টিতে ধান মাটিতে পড়ে গেছে আগেই। হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে।

ধান কাটা শ্রমিক ময়নুল ইসলাম বলেন, আমরা ১২-১৪ জন মিলে প্রতিদিন ২-৩ বিঘা জমির ধান কাটতে পারি। ধানগাছ যদি দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে ৮ হাজার টাকা বিঘা, যদি বাতাসে ধানের গাছ মাটিতে পড়ে যায় তাহলে ৮ হাজার ৫০০ টাকা করে নিচ্ছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ লাখ ৭৪ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে ৭ লাখ ২৯ হাজার ২৬৩ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ লাখ ৭১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয় ৭ লাখ ৩১ হাজার ১৭৩ মেট্রিক টন এবং ২০২০-২১ মৌসুমে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে ৭ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) খালেদুর রহমান বলেন, দিনাজপুরে বোরো ধান কর্তন শুরু হয়েছে। প্রায় ৪০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে ১ লাখ ৭২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৫০ মেট্রিক টন।

তিনি আরও বলেন, হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিছুটা শ্রমিক সঙ্কট থাকলেও আমরা কৃষকদের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে বলছি। এতে খরচ কমবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত