ঢাকা, সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

সংবাদ সম্মেলন

ইউএনও’র বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করা সেই কলেজছাত্রী ‘নিরাপত্তাহীনতায়’

  শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২২, ১৯:৫৩  
আপডেট :
 ২৫ মে ২০২২, ১৯:৫৫

ইউএনও’র বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করা সেই কলেজছাত্রী ‘নিরাপত্তাহীনতায়’
ছবি: প্রতিনিধি
শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সাবেক ইউএনও মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা সেই কলেজছাত্রী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। তদন্ত কমিটি এতে আংশিক সত্যতা পেয়েছে বলে জানতে পেয়েছি। এর ফলে ইউএনও মনজুর হোসেন আমাকে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে আসছে। এতে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছি।

কলেজছাত্রী বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিডিও দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এমনকি আমার ছবি এডিট করে নিজ এলাকায় ভুয়া সাংবাদিক পাঠিয়ে মিথ্যা নিউজ করে সামাজিকভাবে হেনস্থা করে যাচ্ছে। গত ২১ মে আমি মিথ্যা সংবাদের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করি। আমি এসব আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করছি। আমি এর সঠিক বিচারের দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে মনজুর হোসেনের সাথে আমার ফেসবুকে পরিচয় হয়। বিগত ২০২১ সালের ২৮ জুলাই খালার বাড়ি বাসাইল থেকে নিজ বাড়িতে আসার সময় মনজুর হোসেনের (তখন বাসাইলের ইউএনও ছিলেন) সাথে দেখা হয়। তখন লকডাউনের কারণে যানবাহন বন্ধ থাকায় আমার বাড়িতে যেতে সমস্যায় হচ্ছিলো। সে সময় মনজুর হোসেন আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা জানান। করোনার সময় মোবাইল কোর্ট থাকাকালীন গাড়িবহরে আমাকে তোলেন এবং ডিউটি শেষ করে তার অফিসে গিয়ে চা খেতে বলেন। আমি তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তার সাথে যাই।

‘তখন তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার কক্ষে নিয়ে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করেন। এতে আমি কান্নাকাটি করতে থাকলে তিনি আমাকে তার তথ্য গোপন করে বিয়ের আশ্বাস দেয়। পরবর্তীতে ওই বছরের ৩ আগস্ট টাঙ্গাইল শহরের এসএসএস রেস্ট হাউজে আমাকে রাখেন। পরবর্তীতে আমার বিয়ে ভেঙে দিয়ে ২২ আগস্ট কুমুদিনী কলেজ সংলগ্ন পাউয়ার হাউজের পেছনে একটি বাসায় আমাকে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে দিয়ে উঠান।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার বাসা থেকে খোঁজাখুঁজি করে এক পর্যায়ে ভাড়া বাসায় এসে আমাকে নিতে চাইলে মনজুর হোসেন বলেন, আমাদের বিয়ে হয়েছে, তিন মাস পর কাগজ পাঠিয়ে দিবো। এরপর আমি বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তিনি মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিয়ের কথা বলে মেডিকেল ভিসায় গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর আমাকে ভারতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর আমাকে একটি অপারেশন করান। যদিও আমার কোন ধরণের শারীরিক সমস্যা ছিল না। কিন্তু তিনি আমাকে বলেছিলেন আমরা ভারতে গিয়ে বিয়ে করে সেখান থেকেই বাচ্চা নিয়ে দেশে আসবো। তার আশ্বাসেই আমি ভারতে যাই। তবে সেখানে যাওয়ার পর তার ভিসা ও পাসপোর্টে দেখে আমি জানতে পারি সে বিবাহিত এবং ২টি কন্যা সন্তানের পিতা। তিনি আমাকে বিয়ের বিষয়টি গোপন করেছে।

তিনি আরও বলেন, ১২ দিন ভারতে অবস্থান করে বিগত ২০২১ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশে আসি। এরপর তার সাথে আমার কোন প্রকার যোগাযোগ হচ্ছিলো না। তার বন্ধুর নিকট থেকে জানতে পারি তাকে বাসাইল থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। ওই বছরের ১২ জানুয়ায়ি ঢাকার ধানমন্ডিতে তার সাথে আমার দেখা হয়। পরবর্তীতে মনজুর হোসেন আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলো। পরবর্তীতে আমি ২৬ জানুয়ারি নিজ থানায় মামলা দায়ের করি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রাণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেই। এর প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ভুক্তভোগী বলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহানা নাসরিন আমাকে ও মনজুন হোসনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ দিয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে নিউজ প্রচারিত হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ৯ এপ্রিল তার কর্মস্থল থেকে তাকে ক্লোজ করা হয়। এরপর থেকে মনজুর হোসেন এলাকার মাদকাসক্তের সাথে হাত মিলিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে মানসিক হ্যানস্থারও হুমকি দিয়ে আসছে। এমনকি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা পর্নোগ্রাফি মামলাও দেয়া হয়। সেই মামলায় ২ নং স্বাক্ষীর বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মাদক, চুরি, ডাকাতি, খুন ও নারী নির্যাতনের মামলা রয়েছে। আমি আমার পাপ্য অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জেলা, পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত