ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

ব্যতিক্রমী আয়োজনে ৪০ জন এতিম নববধূকে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা

  দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২২, ২০:২৭

ব্যতিক্রমী আয়োজনে ৪০ জন এতিম নববধূকে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা
ছবি: প্রতিনিধি
দিনাজপুর প্রতিনিধি

শুক্রবার দুপুর ১২টা। লাল বেনারসি শাড়ি, লাল ওড়নার ঘোমটা আর নাকে নোলক পরে একের পর এক ৪০ জন নববধূ ও হলুদ রঙের পাঞ্জাবি-পায়জামা, মাথায় টিকলি পরা ৪০ বর হাত ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছেন দিনাজপুরের দ্য গ্রিন ভিউ কমিউনিটি সেন্টারে। সাথে তাদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন।

কমিউনিটি সেন্টারে প্রবেশের আগেই নববধূ এবং তার বরকে বরণ করে নেয়া হয়। উভয় পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের জন্য আয়োজন চলে সকাল থেকে। আয়োজন করা হয় ১৫০০ লোকের খাওয়া-দাওয়ার।

এদিন দুপুরে দিনাজপুর সদর আসনের সাংসদ ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা প্রশাসক খালিদ মাহমুদ জাকি ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত হন। নববধূ এবং বরকে বিয়ের সাজে সাজিয়ে, তাদের পাশাপাশি বসিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবন কামনা করেন সবাই। পরে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

দিনাজপুর লায়ন্স ক্লাব শিশু নিকেতন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে ৪০ জন নিবাসী (এতিম) মেয়েদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়। বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাদেরকে সংবর্ধিত করা হয়েছে তারা একসময় দিনাজপুর শিশু নিকেতন এতিমখানায় বড় হয়েছে।

শিশু নিকেতন হোমে বড় হওয়া ডলি, শাহনাজ, পিংকি, রাইসা ও রামিশারা আজ বধু সেজে বরের ঘরে চলে যাচ্ছে। জীবনের প্রভাতলগ্নেই মা-বাবাকে হারালেও আজ তারা স্বামীর ঘরে নতুন বাবা-মা এবং স্বামীর আত্মীয়স্বজনদের কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসিত।

৪০ জন নববধূ ও তাদের বরকে উপহার হিসাবে একটি করে নতুন বাইসাইকেল, একটি করে হাতে সেলাই মেশিন, একটি করে কোরআন শরীফ, লেপ-তোষক-বালিশ ও পরিবারের বাসন-কোসনসহ ৩৫ প্রকার উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়, যা তাদের সংসারজীবনে সহায়তা করবে।

নববধূ ডলি আক্তার বললেন, কিছুদিন আগে আমার বিয়ে হয়েছে। আমার স্বামী এবং আমার স্বামীর পরিবারের লোকেরা আমাকে অত্যন্ত ভালোবেসে। আমিও তাদের নিজের পরিবারের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছি, কারণ ছোটবেলায় যেহেতু আদর-ভালোবাসা তেমন পাইনি। আজ স্বামীর বাড়িতে গিয়ে সেই না পাওয়া ভালোবাসা পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি। আরও বেশি খুশি হয়েছি আমার মতো যারা একসময় একই এতিমখানায় মানুষ হয়েছে, তাদেরও বিয়ে হয়েছে, আমার মতো নববধূ সেজেছে। আমার স্বামীর মতো তাদেরও বর নতুন সাজে সেজেছে, অনেক ভালো লাগছে আজকের দিনটি।

নববধূ পিংকি বললেন, ছোটবেলায় একই এতিমখানায় মানুষ হয়েছি। নতুন পরিবেশের সাথে প্রথম প্রথম খাপ খাইয়ে নেওয়াটা একটু কষ্টকর ছিল। পরবর্তীতে স্বামীর পরিবারের লোকজনদের সৌজন্যমূলক ব্যবহারের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণে খুব দ্রুত তাদের পরিবারের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছি।

বর আবু রায়হান বলেন, আমি জীবনে যা মনে মনে চেয়েছিলাম...; আমার স্ত্রী এতিমখানায় মানুষ হলেও তার ব্যবহার এবং অন্যান্য গুণে আমি মুগ্ধ হয়েই তাকে ভালবাসা দিচ্ছি। বাকি জীবন যেন তাকে নিয়েই চলতে পারি। অনেক ভালো আছি, আপনাদের দোয়া প্রত্যাশা করছি।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর বলেন, আমাদের সমাজে যারা অসহায় এতিম রয়েছেন তাদেরকে মূল স্রোতের সাথে একত্রিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তাদেরকে দক্ষ করে তোলার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আশা করি এই প্রশিক্ষণ তারা গ্রহণ করলে সমাজের উন্নয়নমূলক কাজ তথা নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, দিনাজপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বর্তমান সরকার প্রতিবছর ১৮ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করে আসছে। যারা সমাজের অসহায় দুস্থ তাদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির করলে আমাদের সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশ এবং জাতির উন্নয়নে কাজ করবে তারা।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসিস দেবাশীষ চৌধুরী, দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম প্রমুখ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত