ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ২ মিনিট আগে

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতা

রামগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও রেলপথ স্থাপনের দাবি আনোয়ার খানের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২২, ২৩:২৬  
আপডেট :
 ২৩ জুন ২০২২, ১৮:৪৭

রামগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও রেলপথ স্থাপনের দাবি আনোয়ার খানের
নিজস্ব প্রতিবেদক

রামগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও রেলপথ সংযোগ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খান।

জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

এসময় বর্তমান সরকারের সময়ে সারাদেশসহ রামগঞ্জের নানা উন্নয়নচিত্র তুলে ধরেন তিনি।

বাজেট অধিবেশনে দেয়া আনোয়ার খান এমপির পুরো বক্তব্যটি তুলে ধরা হলো-

ধন্যবাদ এবং শ্রদ্ধা জানাই বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এবং মন্ত্রী পরিষদসহ সকল সংসদ সদস্যকে।

আমি একই সাথে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই আমার নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুর-১, রামগঞ্জের সকল জনসাধারণকে, মা ও বোনদেরকে এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সকল নেতৃ-বৃন্দদেরকে।

বক্তব্যের শুরুতে আমি গভীরভাবে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। একই সাথে স্মরণ করছি যিনি এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা দিয়ে সাহস যুগিয়েছেন সেই মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। স্মরণ করতে চাই ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট কালরাত্রিতে ঘাতকের গুলিতে নিহত শেখ কামাল, শেখ জামাল, ছোট্ট শিশু শেখ রাসেল এবং বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ আবু নাসেরসহ সকল শহীদেরকে।

শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চাই, ৭৫-এর ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে ঘাতকের বুলেটে নিহত জাতীয় চার নেতাকে। শ্রদ্ধা জানাই মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ, সম্ভ্রম হারানো ৩ লক্ষ মা বোন এবং এক নদী রক্ত পেরিয়ে বাংলার স্বাধীনতা চিনিয়ে আনা আমাদের প্রেরণার উৎস জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে। এছাড়া সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সংগ্রামের সকল শহীদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

মাননীয় স্পিকার

আমি একটু পিছনে ফিরে যেতে চাই , ২০২০ সালের বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস-এর কারণে আমাদের দেশের যে সকল মানুষ ইন্তেকাল করেছেন বিশেষকরে মন্ত্রী, এমপি, শিক্ষক, ডাক্তার, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক , সাধারণ জনগণসহ আমরা যাদের হারিয়েছি আমি তাদের স্মরণ করতে চাই। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং তাদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা জানাই।

মাননীয় স্পিকার

করোনা ভাইরাস নামক যে ব্যাধি, পৃথিবীর ১০০ বছরের ইতিহাসে এমন চরম বিপর্যয়ের মানুষ দেখে নাই। করোনার প্রভাবে গোটা বিশ্বকে নাড়াচাড়া দিয়েছে, পশ্চিমা বিশ্ব লণ্ডভণ্ড হয়েছে। ইউরোপ, আমেরিকা ,যুক্তরাজ্য লণ্ডভণ্ড হয়ে মৃত্যু নগরীতে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতি হয়েছে লণ্ডভণ্ড এই সময়।

মাননীয় স্পিকার

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবেলায় মানুষদের বাঁচাতে প্রত্যেকটি পদক্ষেপ নিয়েছেন অনেক কৌশলী হিসেব-নিকেস করে। কোভিড চিকিৎসায় দেশের সকল সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালদের সংযুক্ত করার মাধ্যমে চিকিৎসা নিশ্চিত করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালকে ও কোভিড চিকিৎসার জন্য সংযুক্ত করেছেন।

মাননীয় স্পিকার

আমরা মাত্র ১৯ দিনে ২০০ বেডের একটি হাসপাতাল তৈরি করে কোভিড চিকিৎসা দেয়া শুরু করি। এ শুরুর মাধ্যমে হাজার হাজার কোভিড রোগীর চিকিৎসার পাশে ছিলাম। মানুষের আর্তনাদ দেখেছি, মৃত্যু দেখেছি, বাঁচার আকুতি দেখেছি, মানুষ যে কত অসহায় নিজ চোখে দেখলাম। আমি ধন্যবাদ দিতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে আমাকে এই চিকিৎসা সেবাই আমার প্রতিষ্ঠান আনোয়ার খান মর্ডাণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে সংযুক্ত করার জন্য। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রতিটি হাসপাতালকে চিকিৎসার জন্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। এ চিকিৎসায় শুধু আমি একাই ছিলাম না আরও অনেক প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কোভিড চিকিৎসায় যোগ দিয়েছেন। এজন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যৎ ও দেশের যে কোন মহামারীতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালও কাজ করবে।

মাননীয় স্পিকার

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লকডাউনের মধ্যেও জীবন এবং জীবিকা সচল রেখেছেন। অভুক্ত মানুষের ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিয়েছেন। অনেক দেশের আগেই তিনি জনগণের জন্য ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। এজন্য বিশ্বে চিকিৎসায় ব্যবস্থায় আমরা অনেক মর্যাদা পেয়েছি।

মাননীয় স্পিকার

আগামী ২৫ জুন শনিবার স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। বাঙালি- বাংলাদেশ এবং আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে পারে এ, এই সেতুই তার প্রমাণ। বিশ্ব ব্যাংক যখন মিথ্যা অজুহাত দিয়ে এই সেতু তৈরিতে অনীহা প্রকাশ করে, তখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নিজস্ব অর্থায়নে এই স্বপ্নের পদ্মা সেতু তৈরি করেন। বিশ্বে ব্যাংকের কাছে মাথানত না করে, নিজের সাহসিকতার সাথে এ খরস্রোতা পদ্মা নদীতে সেতু তৈরি করে প্রমাণ করলেন আমরা সাহসী জাতি আমরা বীরের জাতী। এটা অপমানের প্রতিশোধ।

মাননীয় স্পিকার

ওই সময়ে যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছে এবং সরকারকে বিব্রত করেছে, সংসদীয় একটি কমিটি করে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।

মাননীয় স্পিকার

গত ৯ জুন, ২০২২ তারিখে মাননীয় অর্থ মন্ত্রী ২০২২-২৩ সালের জন্য যে বাজেট এই মহান সংসদে উপস্থাপন করেছেন। এই জন্য মাননীয় অর্থ মন্ত্রীকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। এই বাজেটে দেশের প্রায় সকল শ্রেণীর মানুষের কথা বিবেচনা করেই কোভিড অর্থনৈতিক উত্তরণ এই বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।

মাননীয় স্পিকার

প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে হুইল চেয়ারের উপর কর অব্যাহতি দেয়ায় আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

মাননীয় স্পিকার

বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ৭ % কর দিয়ে দেশে আনার জন্য যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তার জন্য অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এই পাচারকৃত অর্থ দেশের ফিরিয়ে আনার উদাহরণ রয়েছে। একই সাথে আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাবো যে সকল অ-প্রদর্শিত টাকা দেশে রয়েছে, তা যদি ১০% কর আরোপ করে শেয়ার বাজার ও আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়, তা হলে দেশের বিনিয়োগ বাড়বে অর্থনীতি হবে উজ্জীবিত ।

মাননীয় স্পিকার

উন্নত চিকিৎসা সেবা দেশের দরিদ্র জনগণের জন্য এখনও ব্যয়বহুল। স্বাস্থ্য সেবায় বহুল ব্যবহৃত উন্নত যন্ত্রাদি যেমন, থ্রি টেসলা এমআরআই. ১.৫ টেসলা এমআরআই, এইচআর সিটি স্ক্যান বর্তমান ১৫% ভ্যাট থেকে কমিয়ে ৫% করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি ও যন্ত্রাংশে আমদানি শুল্ক আরও কমানো হলে আপামর জনগণ সুলভ মূল্যে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।

মাননীয় স্পিকার

আমার নির্বাচনী এলাকায়, বিগত ৪৭ বছরে আওয়ামী লীগের কোন এমপি ছিলনা। এলাকার রাস্তা-ঘাট সমূহের অবস্থা ছিলো অত্যন্ত ভাঙ্গাচুরা। কিন্তু বিগত তিন বছরের এখন আমার নির্বাচনি এলাকা রামগঞ্জে প্রায় ৩০০ কি.মি.-এর অধিক রাস্তা পাকাকরন করা হয়েছে, রামগঞ্জ -হাজীগঞ্জ ২৪ কি. মি. মহাসড়ক বিগত ১২ বছর ধরে চলাচলের অযোগ্য ছিলো। তা পাকা করা হয়েছে। শিগ্রই আরও ২০০ কি. মি. রাস্তা সংস্কার বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

১৩০টির মত প্রাইমারী স্কুল, হাই- স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ৪ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম হচ্ছে, মুজিব কেল্লা তৈরি করা হচ্ছে, আধুনিক উপজেলা কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে। সকল ইউনিয়ন পরিষদ ডিজিটাল করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীর সংকট কাটিয়ে ২২ জন ডাক্তার এবং ২০ নতুন নার্স নিয়োগ করা হয়েছে। খুব শিগ্রই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। রামগঞ্জে আইন- শৃঙ্খলার উন্নতি ঘটেছে। করোনাকালিন সময়ে আমার নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংকট থাকা ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি দিয়েছি।

করোনাকালিন ঘরবন্দি কর্মহীন ৫০ হাজার পরিবারের মানুষের মুখে আমার নিজস্ব অর্থয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছি এবং এখনও অব্যাহত আছে।

মাননীয় স্পিকার

রামগঞ্জে কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। যা দেশের দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হউক। উপজেলাবাসীর বিনোদনের সুবিধার্থে এখানে সরকারি উদ্যোগে একটি বিনোদন কেন্দ্র/ হলিডে পার্ক নির্মানের জন্য আমি জোর দাবি জানাচ্ছি। আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি অব্যাহত রাখতে ১ নং কাঞ্চনপুর ও ২ নং নোয়াগাও ইউনিয়নের মাঝে কাটাখালী নামক স্থানে পুলিশপাড়ি এবং ৯ নং ভোলাকোট ও ১০ নং ভাটরা ইউনিয়নের মাঝে পুলিশপাড়ি দেয়ার জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মাননীয় স্পিকার

ছয় লক্ষাধিক রামগঞ্জ বাসীর আরেকটি প্রাণের দাবি হচ্ছে রেল লাইন সংযোগ স্থাপন করে রেল চলাচলের ব্যবস্থা করা। আমার নির্বাচনী এলাকার নিকটবর্তী উপজেলা হাজীগঞ্জে বিদ্যমান রেল লাইনটি বর্ধিত করে রামগঞ্জসহ জেলা শরহ লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত রেল লাইন সংযোগের দাবি জানাচ্ছি। মাননীয় স্পিকার এই দাবিটি আমি তিন বছর আগেও মাননীয় রেলমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম।

মাননীয় স্পিকার

রামগঞ্জ বিগত দিনে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে সন্ত্রাসীদের বিচরণ ক্ষেত্র ছিলো। সেভেন স্টার, ফাইভ স্টার বাহিনীর অত্যাচারে রামগঞ্জের, অগণিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীর শারীরিক অঙ্গহানিসহ, অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এখন আমার নির্বাচনী এলাকা রামগঞ্জে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার হওয়ায় কোন জুলুম নেই, মাদকের বিচরণ নেই, মানুষ এখন শান্তিতে বসবাস করছে। আজকের রামগঞ্জ হল জননেত্রী শেখ হাসিনার রামগঞ্জ, উন্নয়নের রামগঞ্জ, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের রামগঞ্জ আসন সরকারের অংশ হিসেবে থাকবে। এই প্রত্যয় রেখে আমি আমার এলাকার জনগণ ও সংসদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত