ঢাকা, বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ২ মিনিট আগে

সিলেটে বন্যায় নিহত ৪৭

  সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২২, ০৮:৪২

সিলেটে বন্যায় নিহত ৪৭
সিলেট প্রতিনিধি

ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় গত এক সপ্তাহে সিলেটে ৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার লোকজন।

বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়। তিনি জানান, বন্যায় বেশিরভাগ পানিতে ডুবে, বজ্রপাতে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, টিলা ধসে এবং সাপের কামড়ে নিহত হয়েছে।

হিমাংশু লাল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মারা যাওয়াদের মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪৭ জনের খবর জানতে পেরেছি। মারা যাওয়াদের মধ্যে সর্বাধিক সুনামগঞ্জে ২৬ জন, সিলেট জেলায় ১৬, মৌলভীবাজারে ৪ জন, হবিগঞ্জে একজন। মারা যাওয়াদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছেন।

সর্বশেষ গতকাল (বৃহস্পতিবার) সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার বসত ঘরে ডুবে পানিতে মারা যাওয়া বাহার নামে এক জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আগেরদিন জৈন্তাপুরে বন্যায় নিখোঁজ এক জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে গত বুধবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ১৭ জনের মারা গেলেও বৃহস্পতিবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে।

সিলেটে টিলাধসে একজন, বন্যার পানিতে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে স্পৃষ্ট হয়ে ২ জন এবং নৌকাডুবিতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারমধ্যে সিলেটের বিশ্বনাথে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম জানান, বন্যার পানিতে ডুবে তার উপজেলায় মা-ছেলেসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আহমেদ হোসাইন জানান, জেলায় বজ্রপাতে ৩ জন ও বন্যার পানিতে ডুবে ২৩ জন এবং মৌলভীবাজারে সাপের কামড়ে ২ জনের, টিলাধসে একজন এবং বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হবিগঞ্জে বন্যার পানিতে ডুবে এক জন মারা যান।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৌলভীবাজারে এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে টিলাধসে একজন, বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশু ও মাছ ধরতে গিয়ে জুড়ি ও কুলাউড়া উপজেলায় সাপের কামড়ে ২ যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন থেকে সিলেট বিভাগে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে করে পানিতে ডুবে গেছে সিলেট জেলা ও নগরের ৮০ ভাগ এলাকা। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার অন্তত ৯০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ডুবে যায় এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এ বন্যায় বিভাগের সোয়া কোটি জনসংখ্যার অন্তত ৪০ ভাগ লোকজন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বন্যায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত