ময়নাতদন্ত রিপোর্ট

আত্মহত্যা নয়, সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক ছাত্র শিহাবকে শ্বাসরোধে হত্যা

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২২, ১৮:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের শিশুছাত্র শিহাব মিয়া। ফাইল ছবি

টাঙ্গাইলের সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের আবাসিক ভবন থেকে শিহাব মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। রিপোর্টে গলা চেপে ধরে হত্যা করার আলামত পাওয়া গেছে।

রোববার দুপুরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ফলাফল পাওয়া যায়। পরে সিভিল সার্জন অফিস থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্টটি থানায় পাঠানো হয়েছে।

গত ২০ জুন সন্ধ্যায় শিক্ষার্থী শিহাব মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ২১ জুন টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে শিহাবের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। সে সখীপুর উপজেলার বেরবাড়ী গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে ও সৃষ্টি একাডেমিক পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আরএমওসহ ৩ চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ওই ৩ সদস্যদের মেডিকেল বোর্ড ময়নাতদন্তের কাজ সম্পন্ন করেন।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, গামছা জাতীয় কোনো কিছু পেঁচিয়ে শিহাবকে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। এছাড়া শরীরের অন্য কোনো স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের কর্তৃপক্ষ এটিকে শুরু থেকেই এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করে আসছিলেন। আর নিহতের পরিবারের শুরু থেকেই হত্যা বলে দাবি করে আসছিলো।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলের শিহাব হত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে মানববন্ধন

নিহত শিহাবের ফুফাতো ভাই আল আমিন সিকদার বলেন, চার মাস আগে সৃষ্টিতে ৫ম শ্রেণিতে শিহাব মিয়াকে ভর্তি করা হয়। সৃষ্টি থেকে আমাদের জানানো হয়েছিল শিহাব এক্সিডেন্ট করেছে। আবার ফোন করে বলে শিহাব মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। শিহাব যেখানে থাকতো আমাদের সেখানে যেতে দেয়া হয়নি। শিহাব আত্মহত্যা করার মতো ছেলে না।

তদন্ত প্রতিবেদনে শিহাবকে শ্বাসরোধে হত্যার সত্যতা প্রকাশ পাওয়ার পর শিহাবের বাবা প্রবাসী মো. ইলিয়াস হোসাইন হত্যা মামলা দায়ের করার কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলেকে শিক্ষিত করার জন্য সৃষ্টিতে দিয়েছিলাম। আগে জানতাম সৃষ্টির মালিক রিপন মানুষ গড়ার কারখানা খুলছে। আমার ছেলেকে হত্যার পর জানলাম রিপন মানুষ হত্যার কারখানা খুলছে। আমার ছেলেকে যেভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, ঠিক সেইভাবে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করছি।

এ ব্যাপারে সৃষ্টি শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রিপনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোনকল করেও তার সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, ময়াতদন্তের রিপোর্ট অনুয়ায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

আরও পড়ুন: শিহাব হত্যার বিচারের দাবিতে টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে