সাবেক সংসদ সদস্য শাহানারা বেগম মারা গেছেন

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২২, ১৮:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর প্রতিনিধি

জাতীয় মহিলা পার্টির সভানেত্রী শাহানারা বেগম

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, রংপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর জেলা জাতীয় মহিলা পার্টির সভানেত্রী শাহানারা বেগম মারা গেছেন।

রোববার ভোরে রংপুর গুড হেলথ হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।

রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। বাদ আছর নগরীর কেরামতিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন প্রাঙ্গণে মরহুমার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে মুন্সিপাড়া করবস্থানে সমাহিত করা হয়।

শাহানারা বেগম শিক্ষকতা, সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অতি পরিচিত এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তিনি ছিলেন রংপুরের প্রবীণ নারী গুণীজনদের মধ্যে অন্যতম। 

১৯৪০ সালের ২৯ মে রংপুরের হারাগাছে তার জন্ম। বাবা মফিজ উদ্দিন আহমদ সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন। মা আমেনা খাতুন ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী। রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হলেও তিনি কিছুদিন পর রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা ভর্তি হয়েছিলেন। সেখান থেকেই ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে কারমাইকেল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর ময়মনসিংহ থেকে বিএ, বিএড ডিগ্রি লাভ করেন।

যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা দিয়েছিলেন, সেই রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তার কর্মজীবনের শুরুটা। প্রথমে সাধারণ শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দিলেও বিএড সম্পন্ন করার পর নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৪ সালে এখানে সহকারী প্রধান শিক্ষিকা এবং ১৯৮৮ সালে প্রধান শিক্ষিকা পদে দায়িত্ব পান। এরপর ১৯৯০ সালে পদোন্নতি লাভ করেন। পুরো কর্মজীবন এই রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে পার করে ১৯৯৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন। 

২০১৪ সালে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

শিক্ষকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯৯৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন । নারীদের কল্যাণে বিভিন্ন অবদানের জন্য ২০১২ সালে রোকেয়া দিবস উপলক্ষে রংপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে বেগম রোকেয়া ফোরাম রংপুরের পক্ষ থেকে তাকে রোকেয়া সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া শ্রেষ্ঠ গাইডার হিসেবে জাতীয় পুরস্কার, ১৯৯৬ সালে রংপুর বইমেলায় সম্মাননা, ২০০৭ সালে নাট্যশিল্পী হিসেবে সংবর্ধনা, ২০১১ সালে রংপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে সিনিয়র সিটিজেন এবং শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী হিসেবে সম্মাননা পদক, ২০১২ সালে রংপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস সম্মাননা লাভ, রংপুর গীতাঞ্জলির পক্ষ থেকে সাদা মনের মানুষ হিসেবে সম্মাননা তার উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস