দুর্নীতির কারণে দেশে ঠিকমতো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না: দুদক কমিশনার

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২২, ২০:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

  গাজীপুর প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান বলেছেন, অর্থনীতিবিদরা বলেন দুর্নীতির কারণে দেশে প্রবৃদ্ধির হার শতকরা ২ ভাগ কমে গেছে। আমি বলবো এ পরিমাণ দুই হোক আর পৌনে দুই ভাগ হোক, দুর্নীতির কারণেই যে আমাদের প্রবৃদ্ধি ঠিকমতো হচ্ছে না এতে কোন সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, শুধু ওয়াজ নছিহত করে দুর্নীতিমুক্ত করা যাবে না। চোরায় না শুনে ধর্মের কাহিনী। তাই আমাদের এখন দায়িত্ব হলো দুর্নীতি বিরুদ্ধে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা, শাস্তির ব্যবস্থা করা। পরিবারের স্ত্রী-সন্তানদেরও এ ব্যাপারে বুঝাতে হবে। নিজেদের যে আয় আছে তা দিয়ে চলতে হবে। স্ত্রী-বাচ্চারা যদি কিছু আবদারও করে তা কিনে দেয়ার জন্য দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া যাবে না।

বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) ২০২১-২২ আওতাধীন জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুর্নীতিবিরোধী এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদক কমিশনার এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর গিয়াসউদ্দীন মিয়া। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ^বিদ্যালয়ের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও নৈতিকতা কমিটির ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক এম. ময়নুল হক। এছাড়া অনুষ্ঠানে বশেমুরকৃবি’র সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে সবকিছু করতে পারি তা নয়। বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো হয়, তার ১০০টার মধ্যে ১০টার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারছি। কারণ অধিকংশ অভিযোগের ক্ষেত্রেই দালিলিক প্রমাণ থাকে না। এজন্য আমরা অনেক কিছু চোখের সামনে দেখি, কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। ৪/৫ বছর আগে মামলার শতকরা ৩৬/৩৭ ভাগ কনভিকশন হতো। এখন তা ৬৭/৬৮ ভাগে এ উন্নীত হয়েছে। এখন আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি রেসক্রস ময়দানে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তার বক্তব্যে বলেছেন, যার যা কাজ তা সবাই ঠিকমতো করে যান। কেউ ঘুষ খাবেন না। এ দেশে আর দুর্নীতি চলতে দেয়া হবে না। তিনি ১৯৫৭ সালে ১১ জানুয়ারি কুমিল্লা সেনানিবাসে বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, এতো রক্ত দেয়ার পর যে স্বাধীনতা এনেছি, কিন্তু চরিত্রের পরিবর্তন অনেকেরই হয়নি। ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, মুনাফাখোরী ও চোরাকারবারীরা বাংলার দুঃখী মানুষদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে দিয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর তাদের এসব ছেড়ে চলতে বলেছি। চোরায় না শুনে ধর্মের কাহিনী। কিন্তু আর চলতে দেয়া হবে না।  ১৯৭৫ সালে টাঙ্গাইলে এক জনসভায় মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, দেশের শতকরা ২৫ ভাগ দুঃখ দূর হয়ে যাবে যদি দুর্নীতি বন্ধ করা যায়। আমরা কি বঙ্গবন্ধুর সেই কথা রাখতে পেরেছি?

সভায় ভিসি অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন বলেছেন, দুর্নীতি দেশের উন্নয়নে বড় বাধা। যে দেশ ও সমাজে দুর্নীতিমুক্ত হবে, সে দেশ ও সমাজের উন্নয়ন ঘটবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে