ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯ আপডেট : ৪ মিনিট আগে

আজ থেকে চট্টগ্রামে বসছে কোরবানি পশুর হাট

  চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২২, ০৯:০৮

আজ থেকে চট্টগ্রামে বসছে কোরবানি পশুর হাট
ছবি- প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে গরু আসতে শুরু করেছে। তিনটি স্থায়ী হাটের পাশাপাশি ১৭টি শর্তে নগরীতে ৪টি অস্থায়ী কোরবানি পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ফলে নগরীতে স্থায়ী ৩টিসহ মোট ৭টি হাট বসাতে পারবে এবার।

এর বাইরে ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন খামারে গরু ছাগলের মজুদ গড়ে উঠতে শুরু করেছে। চট্টগ্রামে এবার ৮ লাখের মতো গরু কোরবানি দেয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া গত কয়েক বছরের মতো এবারও বন্দর নগরীর পশুর হাটে কোরবানির পশু কেনার ওপর কর অপরিবর্তিত থাকবে।

সূত্র জানিয়েছে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে গরু আসার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের নানা অঞ্চলের পাশাপাশি ভারত, নেপাল এবং মিয়ানমারের কিছু গরুও ঠাঁই পেয়েছে কয়েকটি খামারে। তবে দেশীয় গরু দিয়েই চট্টগ্রামের চাহিদা পূরণ সম্ভব বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট খামারিরা বলেছেন, বাইরের গরুর সংখ্যা খুবই কম। খামারের সৌন্দর্যের জন্য দুয়েকটি করে বাইরের গরু রাখা হয়েছে।

মোহাম্মদ রাজ্জাক নামের কুষ্টিয়া থেকে আসা একজন গরু ব্যবসায়ী জানান, প্রচুর মানুষ গরু ছাগল দেখতে আসছেন। দরদামও করছেন। কিন্তু কিনছেন না।

অপর একজন ব্যবসায়ী বলেন, কোরবানির চাঁদ দেখা গেলে গরু-ছাগল কেনার একটি নিয়ম রয়েছে। তাই কোরবানির চাঁদ দেখা পর্যন্ত ক্রেতারা অপেক্ষা করছেন।

এদিকে, নগরীর যেসব স্থানে পবিত্র ঈদুল আজহার অনুমোদিত অস্থায়ী হাটগুলো বসবে- কর্ণফুলী গরুর বাজার, সল্টগোলা রেলক্রসিং সংলগ্ন হাট, দক্ষিণ পতেঙ্গার বাটারফ্লাই পার্কসংলগ্ন খালি মাঠ ও পতেঙ্গা লিংক রোড সংলগ্ন খেজুরতলা মাঠ। এছাড়াও তিনটি স্থায়ী হাট হচ্ছে- সাগরিকা বাজার, বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের হাট।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) রাজস্ব কর্মকর্তা সৈয়দ শামশুল তাবরিজ বলেন, গরুর হাটে পশু বিক্রয় মূল্যের ওপর পাঁচ শতাংশ কর দিতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) বদিউল আলম বলেন, করোনার সংক্রমণ কম হওয়ায় ১৭টি শর্তের ভিত্তিতে নগরে অস্থায়ী ৪টি পশুর হাটের অনুমতি দেয়া হয়েছে। যে পশুর হাটগুলো বসানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে তাদেরকে অবশ্যই সব শর্ত মানতে হবে এবং হাটগুলোর কারণে কোনভাবেই সড়কে যানজট সৃষ্টি করা যাবে না।

অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর ক্ষেত্রে ১৭টি শর্ত হলো : অস্থায়ী পশুর হাট-বাজার প্রধান সড়ক থেকে ন্যূনতম ১০০ গজ দূরে সুবিধাজনক স্থানে বসাতে হবে। যাতে কোনো অবস্থায় প্রধান সড়কের যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়। পশুর হাটের মাঠের চৌহদ্দির বাইরে এবং রাস্তায় কোনো পশু রাখা যাবে না বা খুঁটি স্থাপন করা যাবে না। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তার প্রতিরোধে পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, প্রবেশ ও বাহির পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং সাবান-পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। হাটে একদিকে প্রবেশ এবং অন্যদিকে বের হওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাতে জটলা সৃষ্টি না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। এছাড়া বৃদ্ধ ও শিশুদের পশুর হাটে প্রবেশ নিরুৎসাহিত করতে হবে। অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয়কে উৎসাহ প্রদান এবং হাটে ইজারাদাররা নিজস্ব পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবেন। হাটে পশুর সুস্থতা যাচাইয়ে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। বাজার এলাকা নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার রাখতে হবে।

এর আগে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামে মোট ১০টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি চাইলেও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন চসিককে মাত্র তিনটি অস্থায়ী হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত