ঢাকা, বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯ আপডেট : ১২ মিনিট আগে

শুক্রবারের বাজারে গরুর মাংসের বাড়তি চাহিদা

  আল-রাজী মাহমুদ অনিক

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২২, ১৯:০৭  
আপডেট :
 ০২ জুলাই ২০২২, ২৩:৩৬

শুক্রবারের বাজারে গরুর মাংসের বাড়তি চাহিদা
আল-রাজী মাহমুদ অনিক

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ঈদের মতোই উৎসবমুখর দিন হচ্ছে শুক্রবার। আর উৎসবে খাবার টেবিলে গরুর মাংস এক অত্যাবশ্যকীয় আইটেম। কাজেই শুক্রবারে গরুর মাংসের চাহিদাও থাকে বেশি।

কিন্তু মধ্যবিত্ত আর গরিব মানুষদের কাছে দুর্লভ খাবারে পরিণত হয়েছে গরুর মাংস। তাদের মনকে একরকম মানিয়েই নিতে হয়েছে যে, এই মাংস আমাদের জন্য নয়। তবুও মাংসের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে দামটা জিজ্ঞেস করেন অনেকে। দাম শুনে আস্তে ধীরে পিছু হটেন তারা। মাংসের দাম কিছু মানুষের কাছে স্বাভাবিক মনে হলেও দেশের বড় একটা শ্রেণির জন্য খুবই কষ্ট আর যাতনার।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার একাধিক মাংসের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দোকানের সামনে দর্শনার্থী বেশি থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম।

এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মইনুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, মাংসের দাম আমাদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। অনেকেই হয়তো কিনতে পারছেন, কিন্তু মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে গরুর মাংস কেনা যেন স্বপ্ন। এভাবে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে গেল দামটা। ফলে অনেকটাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে মাংস কেনা। সবকিছুই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু দেখার কেউ নেই। দাম যদি একটু কমতো, তাহলে হয়তো সবাই কিনে খেতে পারতেন।

মাংসের বাজার প্রসঙ্গে হতাশা ব্যক্ত করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অহিদ ইমরান বলেন, বাজারের কথা বলে ভাই লাভ নেই। দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির ফলে মানুষ আসলে অসহায় হয়ে পড়েছে। বাজারের এদিকে ৬৮০ টাকা করে বিক্রি হলেও ওই পাশে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা করে। অথচ গতবছরেও মাংসের দাম ছিল ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা কেজি।

বাজারে শুধু মাংসই নয়, প্রায় প্রতিটি পণ্যেরই দাম বেড়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কষ্ট হলেও সাধারণ মানুষের যেন অনেকটা সয়ে গেছে।

মাংসের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আরেক সরকারি কর্মকর্তা তারেকুর রহমান মোল্লা বলেন, ৬৮০ টাকা কেজি করে মাংস নিয়েছি। বাজার অনুসারে দামটা আমার কাছে ঠিকই মনে হয়েছে। কারণ প্রতিটি পণ্যেরই দাম বেড়েছে। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির সময়ে মাংসের দামটা ঠিকই আছে।

সাম্প্রতিক সময়ের বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে মাংসের দাম একবার বাড়লে পরবর্তীতে কমার কোনো ইতিহাস নেই এই। এ বছরের জানুয়ারিতেই যে গরুর মাংস ছিল কেজিতে ৫৮০ থেকে ৬০০ ও ফেব্রুয়ারিতে ৬৫০ টাকা, এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা কেজিতে।

বিক্রেতারা বলছেন, গরুর দাম বেশি থাকায় বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। দাম কমলে তারাও কম দামে বিক্রি করবেন।

কোনাপাড়া বাজারের মাংসের দোকানদার হারুন মোল্লা বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, গরুর দাম বেশি, কী করমু কন। গরু যারা পালে তারা বলে গরুর খাবারের দাম বেশি। কৃষকরা গরু বিক্রি করতে চায় না। ওনারও তো গরু লালন-পালন করেন একটু ভালো দামে আশায় বিক্রির আশায়। এখন আমরা যদি কম দামে আনতে পারি, তাহলে কম দামে বিক্রি করতে পারব।

তিনি বলেন, গরুর মাংস কেজি প্রতি ৬৮০ টাকা করে বিক্রি করছি। এই দামে ভালোই বিক্রি হয়। গরুর কলিজাও মাংসের মতো একই দাম। ভেতরের হাড় ফেলে দিয়ে মাথার দাম ৪০০ টাকা কেজি। গরুর পায়ার (পা) একেকটার একেক দাম। ছোট গরুর এক হালি পায়া বিক্রি করি ৮০০ থেকে এক হাজার, আর বড় গরুর ১৪শ-১৫শ টাকায় বিক্রি করি।

সামনের দিনে দাম আরও বাড়বে কি-না জানতে চাইলে হারুন মোল্লা বলেন, আশা করছি সামনে আর দাম বাড়বে না। ঈদের মধ্যে যদি গরু আমদানি বেশি হয় তাহলে দাম একটু কমবে। আর যদি আমদানি কমে তাহলে দাম বেড়েও যেতে পারে।

রাজধানীর বাজারগুলোতে গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে মুরগি। আর মুরগির ডিম (লাল) প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। কোথাও আবার তার ১২৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। দেশি মুরগির ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের দামেই ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। সেই সঙ্গে লেয়ার মুরগি ২৭০ টাকা, পাকিস্তানি, সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়।

মুরগির দামের বিষয়ে যাত্রাবাড়ী কাঁচা বাজারের মুরগির বিক্রেতা জাহিদুর রহমান বিশ্বাস বলেন, মুরগির দাম আগের মতোই আছে, বাড়েনি। তবে ঈদের আগে মুরগির দাম বাড়তে পারে। আজকের বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। মাঝারি সাইজের ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বেশি।

অন্যদিকে কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে সবজিও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, বেগুন ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করোলা ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পটল, ঢেঁড়স, ঝিঙে প্রতি কেজি ৫০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা (আকারভেদে), মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এআর/এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত