ঢাকা, সোমবার, ০৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

‘সোনার বিস্কুট’ দেখিয়ে সর্বস্ব নিয়ে চম্পট

  যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২২, ১৯:৩৯

‘সোনার বিস্কুট’ দেখিয়ে সর্বস্ব নিয়ে চম্পট
প্রতীকী ছবি
যশোর প্রতিনিধি

নকল সোনা দেখিয়ে আসল সোনার গহনা ও নগদ টাকাসহ মূল্যবান দ্রব্য কৌশলে হাতিয়ে নেয়ার খুলনার সেই চক্রটি ফের তৎপরতা শুরু করেছে যশোরে। ঈদ সামনে রেখে ওই চক্রটি আগের মতো যশোর শহরে রিকশা বা ইজিবাইক চালক বেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এই চক্রের সহযোগী হিসাবে যশোরে বসবাসকারী একটি চক্র রয়েছে। নারী-পুরুষ উভয়ের আলাদা চক্র যশোরের সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে প্রতারণ করছে।

গত রোববার দুপুরে এই চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। হাসনা হেনা নামে এক নারীর কাছ থেকে প্রতারণা করে সোনার চেইন ও নগদ ৫ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে প্রতারকচক্রের তিন সদস্য। এই চক্রের দুই সদস্যকে পুলিশ আটক করেছে।

শহরের নাজির শংকরপুর এলাকার আহাদুর জামান শ্রাবণের স্ত্রী হাসনা হেনা (২২) অভিযোগ করেন, রোববার দুপুরে তিনি দড়টানা থেকে রিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। রিকশাচালক নজরুল ইসলাম (৩৭) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে দিয়ে (প্যারিস রোড) যাওয়ার পথে ফাঁকা স্থানে হঠাৎ রিকশাটি দাড় করায়। সে জানায়, রিকশা খারাপ হয়ে গেছে আর চলবে না। এরপরই রিকশাচালক একটি কাগজে মোড়ানো শ্রী জুয়েলার্স নামক প্রতিষ্ঠানের প্যাড ব্যবহার করা একটি চিরকুট বের করে। ওই কাগজে মোড়ানো অবস্থায় ছিল একটি ভুয়া সোনার বিস্কুট। তাতে লেখা ছিলো ২২সি। নজরুল সেটি হাসনা হেনার হাতে দিয়ে পড়তে বলে। এই সময় এই চক্রের আরো ৪জন সদস্য সেখানে গিয়ে বলে বিস্কুটটি কিনে নিতে। অনেক লাভ হবে। রিকশাচালক বিস্কুটটি কুড়িয়ে পেয়েছে। এটা দিয়ে সে কী করবে? বরং সে কিছু টাকা বা সোনার গহনা পেলে তার জন্য উপকার হবে।

এসময় তিনি লোভে পড়ে তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের সোনার চেইনটি দিয়ে বিস্কুটটি নিয়ে নেন। এই ফাঁকে প্রতারক চক্রটি তার পারস (ভ্যানেটি ব্যাগ) থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। তিনি সোনার বিস্কুট মনে করে দ্রব্যটি হাতে নিয়ে দেখেন সেটি সোনা নয়। এ সময় চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে চালক নজরুল ও তার সহযোগী সোহাগ গাজীকে (৩৮) আটক করে।

বাকি তিনজন ওই সোনার গহনা ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাকি তিনজনের নাম পরিচয় জানতে পারে।

আটক রিকশাচালক নজরুল ইসলাম খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার খোকন কমিশনারের কলোনির জামালের বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত হানিফ শেখের ছেলে। তার সহযোগী সোহাগ গাজী পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার ইকরবুনিয়া দড়িচর গ্রামের মৃত হায়দার ফারাজীর ছেলে।

তাদের অপর তিন সহযোগী হলো, খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার আরাফাত প্রকল্প এলাকার মৃত মুসা খানের ছেলে বাবু খান (৪০), সোনাডাঙ্গার খোকন কমিশনারের কলোনির মৃত আবুল সরদারের ছেলে জাহাঙ্গীর সরদার (৪৮) ও যশোরে সিটি কলেজ কলোনিপাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে ডালিম হোসেন (৪৮)। এই ঘটনায় ৫জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন হাসনা হেনা।

যশোর পুরাতন কসবা ফাঁড়ির এসআই খায়রুল আলম জানিয়েছেন, আটক দুইজনকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, যশোর শহরে প্রায়ই রিকশা ও ইজিবাইকযাত্রীরা এই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন। এছাড়া রেলস্টেশন, বড় বাজার এবং বিভিন্ন শপিংমলের আশেপাশে এই চক্রের সদস্যরা অবস্থান নিয়ে থাকে। বেশ কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর ফের এই চক্রটি যশোরে তৎপরতা শুরু করেছে। প্রতারকচক্রের বেশ কয়েকজন ইতিপূর্বে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে খুলনার বেশ কয়েকটি গ্রুপ যশোরে এসে এই ধরনের প্রতারণা করে।। নারীদের গ্রুপটি সচরাচর বোরকা পড়ে থাকে। আর পুরুষ দলের সদস্যরা থাকে রিকশা বা ইজিবাইক চালকের বেশে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে মাসের পর মাস থাকে। এরপর কোনো একটি প্রতারণা করে তারা সটকে পড়ে। এই চক্রের সদস্যদের আটক করা খুবই কষ্টকর। কারণ তারা এক স্থানে বেশি দিন থাকে না। ভিন্ন স্থানে গিয়ে ভিন্ন পরিচয়ে প্রতারণা করে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত